একসময় দেশে প্রায় ২০ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও তা কমে প্রায় ২ লাখ টনে নেমে আসে। বর্তমানে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে উৎপাদন পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে দেশে ইলিশের উৎপাদন পুনরায় ২০ লাখ টনে নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর সদরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আমিন উর রশিদ জানান, জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে এবং এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ইলিশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা সবাইকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আমিন উর রশিদ বলেন, এক সময়কার প্রাচুর্যের তুলনায় বর্তমানে ইলিশের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রধান কারণ জাটকা নিধন। একটি ডিমভর্তি ইলিশ ধরা মানে হাজার হাজার ভবিষ্যৎ মাছ ধ্বংস করা। তাই ইলিশ সংরক্ষণে সবার সচেতনতা জরুরি। তিনি বলেন, সরকার জেলেদের জন্য চাল, তেলসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা।
মন্ত্রী জেলেদের উদ্দেশে বলেন, অন্তত ২ মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ছোট ইলিশ বড় হয়ে অধিক ওজনের হবে, যা ভবিষ্যতে বেশি লাভজনক হবে। ইলিশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি পরিচিত ব্র্যান্ড। ‘ইলিশ মানেই বাংলাদেশ’ এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চাঁদপুর অঞ্চলের চর ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় পালিত হচ্ছে। গত ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সরকার জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করেছে।
