আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা

বাদীকে জেরা করেননি চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

চট্টগ্রামে আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বাদী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিনকে জেরা করেননি প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে বাদীকে জেরার দিন ধার্য ছিল।

এর আগে আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ২৪ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রধান আসামি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে কারাগার থেকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর-পিপি এস ইউ এম নুরুল ইসলাম বলেন, আজ উপস্থিত অবশিষ্ট আসামি ও পলাতক আসামিদের পক্ষে বাদীকে জেরা করা শেষ হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে জেরা করা হয়নি। তার পক্ষে কোনও আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন না। আদালত চিন্ময় দাসের কাছে জেরা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন- আইনজীবীর সঙ্গে আলাপ না করে কিছু বলতে পারবেন না।

সূত্রটি জানায়, বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আলিফ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার এজাহারকারী, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইতিপূর্বে স্বাক্ষ্য দিলেও আসামিদের জেরা করা বাকি ছিল। ২৫ জন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন। তবে আজকের শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

সূত্রটি আরও জানায়, বুধবার আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জিজ্ঞাসা করেন, তার পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত আছেন কি না এবং তিনি জেরা করবেন কি না। এ সময় তিনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানাবেন মর্মে মৌখিকভাবে সময় প্রার্থনা করেন। আদালত পুনরায় জেরার জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সেদিন আলিফ হত্যা মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দেন বিচারক। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নাকচ করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। এ সময় তার অনুসারীরা আদালত চত্বরে তাণ্ডব চালায়।

তিনঘণ্টা পর বাধ্য হয়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী আলিফকে চিন্ময় অনুসারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। ৩১ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে মামলায় আসামি করা হয়। আসামিরা সবাই নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত