কোচ বদলের স্রোত যেন থামছেই না উত্তর আফ্রিকার ফুটবল দল তিউনিসিয়ার শিবিরে। গত তিন বছরের সংক্ষিপ্ত পরিসরে একের পর এক কোচ বদল করে এবার নতুন মিশনে নেমেছে দলটি। ২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশাজনক অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করতে মরক্কোর সফল কোচ মঈন শাবানিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রধান কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে তিউনিসিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফটিএফ)।
২০৩০ সাল পর্যন্ত চার বছরের চুক্তিতে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এই সফল কৌশলবিদ।
গত তিন বছরে তিউনিসিয়ার ডাগআউটে এটি হতে যাচ্ছে অষ্টম কোচের পরিবর্তন, যা দলটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বহীনতা ও মাঠের বাইরের অস্থিরতারই এক বড় চিত্র। চলতি বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর ছাঁটাই হন সাবরি লামুশি। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়ে ফরাসি কোচ হারভে রেনার্ডও দলের চাকা ঘোরাতে ব্যর্থ হন। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের কাছে যথাক্রমে ৪-০ ও ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তিউনিসিয়া। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আসরে নিজেদের সবকটি ম্যাচেই হারের তেতো স্বাদ পায় দলটি।
বিশ্বকাপের সেই চরম হতাশা থেকে দলকে বের করে আনতে এবার সম্পূর্ণ দেশীয় ও পরীক্ষিত এক কারিগরের ওপর ভরসা রাখছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। এর আগে মরক্কোর ক্লাব রেনেসাঁ বারকানের হয়ে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছেন শাবানি। তার কোচিংয়েই ক্লাবটি ২০২৪-২৫ মৌসুমের ঘরোয়া লিগ শিরোপার পাশাপাশি জিতেছিল ঐতিহাসিক ২০২৫ ক্যাফ কনফেডারেশন কাপের মুকুট। এছাড়া তিউনিসিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এস্পেরেন্সের ডাগআউটে থেকে দুটি মর্যাদাপূর্ণ ক্যাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়েরও গৌরব রয়েছে তার। তার কোচিং ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম কোনো জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন শাবানি।
আসছে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই নিজেদের নতুন মিশন শুরু করবে তিউনিসিয়া। ২০২৭ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বের লড়াইয়ে 'এইচ' গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে উগান্ডা, লিবিয়া ও বতসোয়ানা।
