বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই খেলোয়াড়দের বেতন বাড়িয়েছেন তামিম ইকবাল। গতকাল বুধবার বিসিবি কার্যালয়ে বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানো হয়েছে, যা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে জানিয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগ বণ্টন এবং স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোর নতুন প্রধানদের নাম। তামিম আরও জানিয়েছেন, সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নীতির আওতায় পরিবর্তন আসছে নিউজিল্যান্ড সিরিজের ম্যাচ শুরুর সময়ে। দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য খেলা শুরুর সময় এগিয়ে এনে ফ্লাডলাইটের ব্যবহার কমিয়ে আনতে চায় বিসিবি।
তামিম জানান, ‘আমার মনে হয়েছে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে যারা কাজ করছে, তারা খুব পেশাদারভাবে সুন্দরভাবে কাজ করছে। এ জায়গাটা এত সংবেদনশীল, এখানে আমি একজনকে নিয়োগ করলাম, আবার এসে যদি আমি আমার ইনপুটটা দিই, তাহলে একটা ডিস্টার্বেন্স তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে কাউকে নিয়োগ দেব না। যদি কোনো এনকোয়ারি আসে তাহলে বোর্ডে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। আমি ওয়ার্কিং কমিটি আর ফ্যাসিলিটিজ দেখব, ফাহিম সিনহা দেখবেন গেম ডেভেলপমেন্ট ও বিপিএল, রফিকুল ইসলাম বাবু দেখবেন গ্রাউন্ডস, তানজিল চৌধুরী দেখবেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, সালমান ইস্পাহানি দেখবেন বিপণন ও শৃঙ্খলা, রাশনা ইমাম দেখবেন নারী ক্রিকেট ও অভিযোগ কমিটি, ইসরাফিল খসরু দেখবেন অর্থ ও সমাজকল্যাণ, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ দেখবেন নিরাপত্তা ও টেন্ডার এবং ক্রয় কমিটি, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু দেখবেন টুর্নামেন্ট কমিটি, মির্জা ইয়াসির আব্বাস দেখবেন লজিস্টিকস ও আতহার আলি খান দেখবেন আম্পায়ার কমিটি।’
তামিম আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা আজকে (বুধবার) কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি পুরুষ ও নারী প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট নিয়ে। আমাদের নারী ক্রিকেটাররা যখন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তাদের ম্যাচ ফি নিয়ে কোনো ধারণা আছে আপনাদের? এটা একসময় এক হাজার টাকা ছিল। তারপর এটাকে প্রস্তাবিত ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছিল, সেটাও অনেক কম। আমার কাছে মনে হয় এটা কোনোভাবেই ঠিক না। তারাও ২০ ওভারের, ৫০ ওভারের, ২-৩ দিনের ম্যাচ খেলেন। টাকা এখন যেটা চালু করছি, সেটাও বলব না খুব ভালো। তবে বাড়ানোরও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এখন টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য পাবেন ১০ হাজার টাকা করে, ওয়ানডে ম্যাচের জন্য তারা পাবেন ১৫ হাজার টাকা করে, লঙ্গার ভার্সনে ২-৩-৪ দিনের ম্যাচের জন্য পাবেন ২০ হাজার টাকা করে। যেটা আগে ৮ হাজার বা এরকম কিছু একটা ছিল’। তামিম যোগ করেন, ‘জাতীয় দলের বাইরে ৩০-৩৫ জন নারী ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন, ওখানে ৩০ হাজার টাকা করে তাদের মাসিক বেতন ছিল, এটাকে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। জাতীয় দলের চুক্তির সর্বনিম্ন ধাপ হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা, তাই আমরা এর চেয়ে বেশি বাড়াইনি। কারণ ঘরোয়া আর আন্তর্জাতিকে একটু পার্থক্য রাখা দরকার।’ পুরুষ ক্রিকেট নিয়ে তামিম বলেছেন, ‘পুরুষ ক্রিকেটারদের নিয়ে গত ৩-৪ বছর ধরে, যদি ভুল না করে থাকি তাহলে যেটা জানি যে তাদের বেতন বাড়েনি। এতদিন পুরুষ ক্রিকেটারদের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে বেতন ছিল ৩৫ হাজার টাকা, ‘বি’ ৩০ হাজার এবং ‘সি’ ২৫ হাজার টাকা। আমার কাছে মনে হয়, এটা খুবই কম। তারা সবাই কষ্ট করে ক্রিকেট খেলে, তাদের জন্যই আমাদের এই ক্রিকেট বোর্ড সবকিছু। যে কষ্টটা করে তাদের জন্য আমাদের ন্যূনতম কাজটা করে দেওয়া উচিত। এখন থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে বেতন হবে ৬৫ হাজার, ‘বি’ ক্যাটাগরি ৫০ হাজার এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৪০ হাজার টাকা প্রতি মাসে। চলতি বছরের বেতনের চুক্তি চার মাস হয়ে গেছে; কিন্তু এখনো তারা বেতন পায়নি, হয়তো তাদের চুক্তিসই হয়নি। আজকে যেটা অনুমোদন দিয়েছি, সেটা জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। আর তাদের ম্যাচ ফি এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে।’
শুরু না হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে তামিম বলেন, “খুব দ্রুতই প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে সব দলের সঙ্গে আমরা বসব। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা দলবদলের তারিখ দিয়ে দিতে পারি, আর খেলাটা মাঠে শুরু করে দিতে পারি এটাই আমাদের লক্ষ্য। মাঠ নিয়ে একটা শঙ্কা আছে। তবে এখন যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে মাঠ ভাড়া নেব। কারণ এখন অনেক ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্রিকেট একাডেমি আছে, যাদের সুযোগ-সুবিধা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট আয়োজনের উপযোগী।”