২০ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিতে নিহত রাব্বির মরদেহ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

জুলাই অভ্যুত্থানে লাঠিচার্জ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত এক তরুণের মরদেহ প্রায় ২০ মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে। তার নাম আবু সুফিয়ান রাব্বি (১৯)। রাব্বির বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চরপুবাইল গ্রামে। 

আদালতের নির্দেশে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে চরপুবাইল গ্রামের চকপাড়া মোড় সংলগ্ন একটি মসজিদের পাশে কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তোলা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে একইদিন সন্ধ্যায় ফের রাব্বির লাশ কবরে রেখে মাটি দিয়ে যায় একটি ডোমদল (মর্গ সহকারী দল)। রাব্বির বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ হলেও সে তার বাবা-মায়ের সাথে ঢাকা গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করতো।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বের হতে শুরু করে আনন্দ মিছিল। সেদিন বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে  ছাত্র-জনতার আনন্দমিছিলে অংশ নেন রাব্বি। মিছিলটি 

মাওনা শহীদি মোড় এলাকায় আসতেই একদল বিজিবি সদস্যবাহী বহরকে আটকে দিয়েছিল স্থানীয় ছাত্র-জনতা। এতে দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। অতি উৎসাহী হয়ে কিছু আ.লীগ নেতাকর্মীর উস্কানিতে ছাত্র-জনতার আনন্দ মিছিলে পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার সদস্যদের লাঠি চার্জ ও ছোড়া গুলিতে গুরুত্বর আহত হন রাব্বি। একটি গুলি বিদ্ধ হয় রাব্বির পায়ে। এসময় স্থানীয়রা তাকে নিয়ে যান মাওনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা।

সূত্রটি আরও জানায়, ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ১১ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট মারা যান আবু সুফিয়ান রাব্বি। ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন ১৭ আগস্ট গ্রামের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরপুবাইল গ্রামের একটি মসজিদ সংলগ্ন আবু সুফিয়ানকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর জুলাই যোদ্ধা ও মানবাধিকার কর্মী লেবু মিয়া নামে একজন বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট(শ্রীপুর আমলী) আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। 

এ বিষয়ে সিআইডির গাজীপুর জেলা ও মেট্রো পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবু নোমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে লাঠিচার্জ ও ছোড়া গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হন আবু সুফিয়ান রাব্বি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে সে সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দাফন করায় আদালত কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। সেই আদেশ অনুযায়ী বুধবার দুপুরে রাব্বির মরদেহ তোলা হয়। 

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাঃ সাব্বির হোসাইন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ উত্তোলনের করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পুনরায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত