অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি বিএনপি

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

স্বচ্ছতা-জবাবদিহি ও অধিকারের সুরক্ষার আইনগুলো বিএনপি সরকার কেন বাতিল করছে, তা বুঝতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এ বিষয়টি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অভিশাপ কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বদিউল আলম মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তারা অতীত থেকে অবশ্যই শিক্ষা নেয়নি।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। ‘মানবাধিকার সুরক্ষা ও স্বাধীন বিচার বিভাগসম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে নাগরিক ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে প্রণীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিত করা হলো। আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না যে কেন বিএনপি এ কাজটা করল?’ এ সময় ২০১৮ সালের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতে গিয়ে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জামিনের জন্য ধরণা দিতে দেখেছি। কী করুণ অবস্থা! অনেক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে আদালতে গিয়েও তারা প্রতিকার পাচ্ছিলেন না। বর্তমান সরকার এই যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে, তারা অতীত থেকে অবশ্যই শিক্ষা নেয়নি।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমার বিবেচনায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের এমন আইন প্রণয়ন করা দরকার, যা বিরোধী দলে গেলে তাদের সুরক্ষা দেবে; কিন্তু বিএনপি উল্টো পথে হাঁটছে। এর পরিণতি কী? আমি শঙ্কিত। আমার আশঙ্কা, এর পরিণতি নাগরিকদের জন্য ভালো হবে না এবং ক্ষমতাসীনদের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।’

অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির বলেন, বিচার বিভাগ ও সংসদের মধ্যে অনিবার্য ক্লেশ লাগাচ্ছে সরকার। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ৯০ দিনের মধ্যে বিচারবিভাগীয় পৃথক সচিবালয় তৈরি কর। এই রায় হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। অধ্যাদেশ হয়েছে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর। বিচার বিভাগের সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে, উদ্বোধন হয়েছে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর। এখন এসে অধ্যাদেশটা বাতিল করে দিচ্ছে। রহিত করে দিয়েছে। আমার বিবেচনায় বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচার বিভাগের জন্য একটা ব্ল্যাক ডে টুডে। বাংলাদেশের সব বিচারকের যদি মেরুদন্ড থাকে বাংলাদেশের সব আইনজীবীকে কালো ব্যাজ ধারণ করা উচিত। সকলের মুখে কালো কাপড় পরা উচিত। এগুলো হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের এই ডিরেকশনটা এখনো বহাল। ডিরেকশনটাকে নিট করে দিয়েছে পার্লামেন্ট।

অন্যদিকে বর্তমান সরকারের কাছে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করে রেখে যাওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের’ সঠিক ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টা অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তার মধ্যে এ সরকার ৯৮টা হুবহু মেনে নিয়েছে, ১৫ একটু চেঞ্জ করা হবে বলেছে, ১৬টি বিল আকারে উত্থাপন করা হবে না এবং চারটি বাতিল করেছে। সরকারকে রহিতকরণ চারটিসহ সব অধ্যাদেশের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানের সূচনা ও সমাপনী বক্তব্য দেন এইচআরএসএসের চেয়ারম্যান শাহজাদা আল আমীন কবির। এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন, জি-নাইনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য দীপায়ন খিসাসহ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত