বিপদ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

মসজিদে নববির জুমার খুতবায় গত শুক্রবার শায়খ ড. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-বুয়াইজান মুসলমানদের তাকওয়া অবলম্বন এবং মহান আল্লাহর প্রতি মানুষের চিরন্তন মুখাপেক্ষিতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন রিজিক, জীবন ও সুস্থতা সবই মহান আল্লাহর দান। দোয়াই ইবাদতের মূল এবং বিপদ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সুসময়ে মহান আল্লাহকে স্মরণের মাধ্যমে দুঃসময়ে তার সাহায্য পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। এ ছাড়া খুতবায় দোয়া কবুলের বিশেষ শর্ত হিসেবে হৃদয়ের একাগ্রতা ও দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জুমার দিন ও রাতের শেষ অংশসহ দোয়া কবুলের সময়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শায়খ বলেন, হে আল্লাহর বান্দারা! আপনারা মহান আল্লাহকে ভয় করুন এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকুন। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’ (সুরা আলে ইমরান ১০২)

মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য লাভ করে।’ (সুরা আহজাব ৭০-৭১)

হে লোক সকল! মানুষ তার রবের প্রতি অতিশয় মুখাপেক্ষী। তিনিই তাকে সৃষ্টি করেছেন, সুঠাম করেছেন, তার মাঝে রুহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং তাকে জীবিত রেখেছেন। তিনিই তাকে রিজিক দিয়েছেন, দান করেছেন, অভাবমুক্ত করেছেন, অন্ন ও বস্ত্র দিয়েছেন, রোগমুক্তি ও সুস্থতা দান করেছেন। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘যখন তোমাদেরকে সমুদ্রে বিপদ স্পর্শ করে, তখন তিনি ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক, তারা (তোমাদের মন থেকে) হারিয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে রক্ষা করে স্থলে আনেন, তখন তোমরা বিমুখ হয়ে যাও। আর মানুষ তো খুব অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা ইসরা ৬৭)

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে আরও বলেন, ‘জমিনে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থান সম্পর্কে জানেন। সবকিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।’ (সুরা হুদ ৬)

হে আল্লাহর বান্দারা! প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেওয়া এবং বিপদগ্রস্তের প্রয়োজন পূরণ করার ক্ষমতা বিশ্বজাহানের রব ছাড়া আর কারও নেই। তিনিই সব প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেন এবং প্রত্যেক আশাবাদীকে দান করেন। তার ভাণ্ডার কখনো কমে না এবং তার কাছে যা আছে তা কখনো শেষ হয় না। মানুষের অভাব ও চাহিদার কোনো শেষ নেই এবং একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ তা পূরণ করতে পারে না।

হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, হে আমার বান্দারা, আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম ঘোষণা করেছি। সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না। হে আমার বান্দারা, তোমরা সবাই পথভ্রষ্ট, তবে সে ছাড়া যাকে আমি পথ দেখিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে হেদায়েত চাও, আমি তোমাদের পথ দেখাব। হে আমার বান্দারা, তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত, তবে সে ছাড়া যাকে আমি অন্ন দিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে খাদ্য চাও, আমি তোমাদের খাদ্য দেব। হে আমার বান্দারা, তোমরা সবাই বস্ত্রহীন, তবে সে ছাড়া যাকে আমি পরিধান করিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে পোশাক চাও, আমি তোমাদের পরিধান করাব। হে আমার বান্দারা, তোমরা রাত-দিন গুনাহ করো আর আমি সব গুনাহ ক্ষমা করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করব। হে আমার বান্দারা, তোমরা কখনোই আমার ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখো না এবং কখনোই আমার উপকার করার সামর্থ্য রাখো না। হে আমার বান্দারা, তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের মানুষ ও জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর আমাকে সবচাইতে বেশি ভয় পায়, তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাতে আমার রাজত্ব একটুও বৃদ্ধি পাবে না। হে আমার বান্দারা, তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের সকল মানুষ ও সকল জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর সবচেয়ে পাপিষ্ঠ, তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাহলে আমার রাজত্ব একটুও হ্রাস পাবে না। হে আমার বান্দারা, তোমাদের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন যদি কোনো বিশাল মাঠে দাঁড়িয়ে সবাই আমার কাছে আবদার করে আর আমি প্রত্যেক ব্যক্তির চাহিদা পূরণ করি তাহলে আমার কাছে, যা আছে তাতে এর চাইতে বেশি হ্রাস পাবে না, যেমন কেউ সমুদ্রে একটি সুচ ডুবিয়ে দিলে যতটুকু তা থেকে হ্রাস পায়। হে আমার বান্দারা। আমি তোমাদের আমলই তোমাদের জন্য সংরক্ষিত রাখি। এরপর পুরোপুরিভাবে তার বিনিময় প্রদান করে থাকি। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণ অর্জন করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে তা ব্যতীত অন্য কিছু পায়, তবে সে যেন নিজেকেই দোষারোপ করে। (সহিহ মুসলিম)

হে লোক সকল! দোয়া ইবাদতের মূল। এটি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। এর মর্যাদা অতি মহান এবং উপকারিতা অত্যন্ত গভীর। দোয়া হলো নেয়ামত লাভের এবং বিপদ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। প্রয়োজন পূরণ, মর্যাদা বৃদ্ধি, কল্যাণ অর্জন এবং অনিষ্ট ও মন্দ দূর করার প্রধান চাবিকাঠি হলো দোয়া। দোয়া হলো বিপদকালে মুমিনের একান্ত বন্ধু এবং দুঃখ-কষ্টের সান্ত্বনা। এর মাধ্যমেই মজলুম সাহায্য পায়, কারণ তার দোয়া ও আল্লাহর মাঝখানে কোনো পর্দা নেই। দোয়ার মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ হয় এবং বালা-মসিবত ও শাস্তি দূর হয়। দোয়া ছাড়া তকদির অন্য কিছুতে পরিবর্তন হয় না। সুতরাং আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, কারণ আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কিছু নেই। আকাশের দিকে হাত তুলুন এবং একনিষ্ঠভাবে তার কাছে প্রার্থনা করুন। কাকুতি-মিনতি করে গোপনে আপনাদের রবের কাছে দোয়া করুন। বান্দার জন্য এটি বড়ই অক্ষমতা ও বঞ্চনার বিষয় যে, সে তার রবের কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরবে না, অথচ মহান আল্লাহ তাকে চাওয়ার আদেশ দিয়েছেন এবং সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আল্লাহ পরম দয়ালু, দাতা, অভাবমুক্ত ও মহান। তার দরজা কখনো বন্ধ হয় না, যেভাবে ইচ্ছা তিনি দান করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহর হাত পূর্ণ, দিন ও রাতের নিরন্তর দানও তা কমাতে পারে না। তোমরা কি ভেবে দেখেছ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে তিনি কত দান করেছেন? তবুও তার হাতের ভাণ্ডার থেকে কিছুই কমেনি। (সহিহ বুখারি)

মহান আল্লাহ আমাকে এবং আপনাদেরকে পবিত্র কোরআনের বরকত দান করুন এবং এর আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ থেকে আমাদের উপকৃত হওয়ার তৌফিক দিন।

হে আল্লাহর বান্দারা, মহান আল্লাহ বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন তাদের প্রয়োজন পূরণ করে। তিনি তাদের দোয়ার আদেশ দিয়ে সাড়া দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির ৬০) তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, আমি তো তাদের নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার ওপর ইমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ পায়।’ (সুরা বাকারা ১৮৬)

ওবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জমিনে এমন কোনো মুসলিম নেই যে মহান আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে আর মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন না অথবা তার সমপরিমাণ অমঙ্গল দূর করেন না, যতক্ষণ না সে কোনো পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া করে। তখন এক ব্যক্তি বলল, তাহলে আমরা বেশি বেশি দোয়া করব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ আরও বেশি দানকারী। (জামে তিরমিজি)

হে লোক সকল, আপনারা দোয়ার জন্য উত্তম সময়গুলো তালাশ করুন, কারণ তা কবুল হওয়ার জন্য বেশি উপযোগী। বান্দা যখন সেজদাবনত থাকে তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। তাই সেজদায় আপনারা বেশি বেশি দোয়া করুন। জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যাতে কোনো মুসলিম মহান আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইলে তিনি তাকে তা দান করেন। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কেউ কি আছে যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কেউ কি আছে যে আমার কাছে চাইবে আর আমি তাকে দান করব?

আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। লাইলাতুল কদর হলো দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। এ ছাড়া রোজাদার, মুসাফির, মজলুম, পিতা-মাতার দোয়া, বিপদগ্রস্তের দোয়া এবং কোনো মুসলিমের জন্য তার অনুপস্থিতিতে করা দোয়া কবুল হয়।

হে আল্লাহর বান্দারা, দোয়াই ইবাদত, তাই দোয়ার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠভাবে মহান আল্লাহর দিকে ধাবিত হোন। সুসময়ে আল্লাহকে স্মরণ করুন, তবে তিনি দুঃসময় ও সংকটে আপনাদের সঙ্গে থাকবেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পেছনে ছিলাম, তিনি আমাকে বললেন, হে বৎস, আমি তোমাকে কিছু কথা শেখাব, তা হলো তুমি আল্লাহর বিধিবিধানের হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির খেয়াল রাখ, তুমি তাকে তোমার সামনেই পাবে। যখন কিছু চাইবে মহান আল্লাহর কাছেই চাইবে এবং যখন সাহায্যের প্রয়োজন হবে মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রেখো, সমস্ত উম্মত যদি তোমার কোনো উপকারের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা ততটুকুই উপকার করতে পারবে যতটুকু মহান আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি তারা তোমার কোনো ক্ষতির জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু মহান আল্লাহ লিখে রেখেছেন। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং খাতা শুকিয়ে গেছে। (জামে তিরমিজি)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি চায় যে বিপদের সময় মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করুক, সে যেন সুসময়ে বেশি বেশি দোয়া করে। (জামে তিরমিজি)

হে আল্লাহর বান্দারা, দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত হলো অন্তরের একাগ্রতা, কাকুতি-মিনতি, বিনয় ও নম্রতা এবং দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন না করা। আপনারা নিজের ওপর, সন্তানদের ওপর কখনো বদদোয়া করবেন না। কেউ যেন কোনো জুলুম, পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া না করে। দোয়া করার সময় আওয়াজ নিচু রাখা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে করা উচিত। মুসলিমের উচিত কবুলের দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করা, কারণ মহান আল্লাহ দোয়া শোনেন এবং কবুল করেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো এবং জেনে রেখো, মহান আল্লাহ গাফেল ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না। (জামে তিরমিজি)

আপনারা নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করুন, যেমনটি আপনাদের রব নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ইমানদাররা! তোমরাও তার প্রতি দরুদ ও যথাযথভাবে সালাম পাঠ করো। (সুরা আহজাব ৫৬) এখানে নবীজির প্রতি মহান আল্লাহর দরুদ পাঠ করার অর্থ হলো, আল্লাহ নবীজির প্রতি অনুগ্রহ করেন।

হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। খোলাফায়ে রাশেদ্বীন এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন।

হে আল্লাহ! মুসলমানদের মর্যাদা দান করুন এবং তাওহিদবাদী বান্দাদের সাহায্য করুন। মুসলিম দেশগুলোকে নিরাপদ ও শান্তিময় রাখুন। মুসলিমদের অবস্থা সংশোধন করে দিন, তাদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন।

হে আল্লাহ, মুসলিম জনপদগুলোকে রক্ষা করুন এবং তাদের নিরাপত্তা ও শান্তি দান করুন। আমাদের দেশগুলোতে আমাদের নিরাপত্তা দান করুন এবং আমাদের শাসক ও দায়িত্বশীলদের সংশোধন করে দিন। হে আল্লাহ, খাদেমুল হারামাইনকে আপনার পক্ষ থেকে তৌফিক ও সাহায্য দান করুন। তাকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। তাকে এবং তার যুবরাজকে সেই কাজের তৌফিক দিন, যা আপনি পছন্দ করেন এবং যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।

হে আল্লাহ! আমাদের ইবাদত কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আমাদের ওপর দয়া করুন, নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ (সা.) এবং তার পবিত্র পরিবার ও নেককার সাহাবিদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

৩ এপ্রিল শুক্রবার, মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন মুফতি আতিকুর রহমান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত