মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে এক কলেজ শিক্ষার্থীর (২০) দায়ের করা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। তবে এরই মধ্যে মূল অভিযুক্ত বিদেশে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বোন রুপা আক্তার (৩৫) ও মা মোসাম্মৎ বেগমকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রাইভেট পড়ার সূত্রে অভিযুক্ত দিপুর সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ রাতে পুণরায় তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দিপু তাকে এড়িয়ে চলতে থাকে।
গত ৫ এপ্রিল বিয়ের দাবিতে দিপুর বাড়িতে গেলে তাকে গালাগাল ও মারধর করা হয়। এ সময় দিপুর বোন ও মা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে শিবালয় থানায় ভূক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেন। ভূক্তভোগী অভিযোগ দিতে গেলে নানা টালবাহানা করা হয় এবং বিচার-সালিশের নামে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশ রূপান্তরের অনলাইনে ‘বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক প্রবাসীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ’ সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তার লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। আজ (১০ এপ্রিল) এ মামলায় দিপুর বোন ও মাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা নেওয়ার আগেই দিপু বিদেশে চলে গেছে। পুলিশ তাকে না ধরে তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে দায়সারা কাজ করছে।
তিনি বলেন, আজ সকালে পুলিশ আমাদের থানায় ডেকে জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠালেই তাদের দায়িত্ব শেষ। এখন বাকি প্রক্রিয়া আমাদের উকিলের মাধ্যমে চালাতে হবে। দিপু নাকি আগেই বিদেশে চলে গেছে। যদি কখনো দেশে আসে তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশই বিদেশে যেতে সাহায্য করেছে দিপুকে। তাকে না ধরে তার বোন ও মাকে ধরে আমাদের বোঝানে হচ্ছে যে আসামি ধরা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায়। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার না করলে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত দিপু বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এদিকে মামলার এজাহারে আসামি হওয়ায় তার মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংসদ অধিবেশন ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি