গত ৩১ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া স্বাধীনতা বইমেলা এখনো প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। ১৯ দিনব্যাপী মেলার ইতিমধ্যে ১১ দিন পেরুলেও জমে ওঠেনি বেচাকেনা। ফলে অংশগ্রহণকারী প্রকাশক ও বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে লোকসানের শঙ্কা।
গতকাল শুক্রবার বইমেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের বেশিরভাগই এসেছিলেন বেড়াতে। দর্শনার্থীদের অনেকেই বলেন, ‘আগে তো বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে হতো কিন্তু এবার এমন সময় হচ্ছে যখন স্কুলে বাচ্চাদের ক্লাস ও পরীক্ষার চাপ। তাই বই দেখা বা কেনার সময় মিলছে না।’
মেলার শুরুতে আয়োজকদের প্রত্যাশা ছিল, বিপুলসংখ্যক বইপ্রেমীর সমাগম ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে সে চিত্র দেখা যাচ্ছে না। ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকলেও তাদের উদ্দেশ্য বই কেনা নয়, বেড়ানো বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।
প্রকাশকদের দাবি, ‘ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বিক্রি আশানুরূপ না। অনেকেই স্টলে ঢুঁ মারছেন, বই দেখছেন, ছবি তুলছেন, কিন্তু বই কিনছেন না।
বাতিঘরের কর্মকর্তা বাবলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বই সবাই দেখছে কিন্তু কিনছে না। শুক্রবার হওয়ায় মানুষের ভিড় বেড়েছে, অন্যদিনে তাও হয় না।’
রুবাব পাবলিকেশন্সের মিনহাজুর রহমান জিহাদ বলেন, ‘এমন এক মাসে বইমেলা হচ্ছে যখন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীরা কিংবা বইপোকারা পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। আগে ফেব্রুয়ারি মাসে হতো তখন ভালোই বই বিক্রি হতো।’
নন্দন প্রকাশনার প্রকাশক সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকাশকরা যদি বিক্রেতার ভূমিকায় নেমে আসেন বা বই বিক্রিকেই সব ভেবে বসেন তাহলে তো হবে না। তবে আমরা প্রত্যাশা করি শেষ দিন পর্যন্ত ভালো বই বিক্রি হবে।’
এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবও মেলায় দর্শনার্থী কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলায় আসা দর্শনার্থী মৌসুমী বলেন, ‘আগে তো বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে হতো। এবার সে আমেজ পাচ্ছি না। তাছাড়া নানা সংকটের কারণেও হয়তো অনেক পরিবার তাদের বাচ্চাদের নিয়ে আসতে পারছে না।’
মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন প্রকাশক জানান, প্রতিদিনের খরচের তুলনায় বিক্রি খুবই কম। স্টল ভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে তারা চাপে পড়ছেন। মেলার বাকি দিনগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
