দুমকিতে পানির সংকটে বেড়েছে বোরো চাষের খরচ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির তীব্র সংকটে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। মাঠজুড়ে সবুজ ধানের সমারোহ থাকলেও পানির অভাবে আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১১ হেক্টর, তবে বাস্তবে তা ছাড়িয়ে আরও বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া, কার্তিকপাশা এবং শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাদুয়া ও শ্রীরামপুর এলাকায় ব্যাপক বোরো চাষ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌষের শেষ দিকে বীজতলা তৈরি করে মাঘের মাঝামাঝি সময়ে চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে অধিকাংশ জমিতে ধান সবুজে ভরে উঠেছে-কোথাও শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও থোড় আসতে শুরু করেছে। কৃষকেরা এখন নিড়ানি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং সেচ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কার্তিকপাশা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান-৮৯ ও ৭৪ আবাদ করেছি। ফলন ভালো হওয়ার আশা থাকলেও পানির অভাবে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা কৃষিবিদ শুভঙ্কর চন্দ্র শীল বলেন, বর্ষায় জলাবদ্ধতায় আমন চাষ ব্যাহত হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বোরো চাষে সেচ দিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। মরা খালগুলো দ্রুত খনন করা জরুরি।

কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় খাল ভরাট হয়ে যাওয়া এবং স্লুইসগেট অকেজো থাকায় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দূর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পাইপের মাধ্যমে সেচ দিতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। তারা সরকারি উদ্যোগে খাল খনন ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন জানান, কৃষি প্রণোদনার আওতায় ১০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। তবে সেচ সমস্যা বড় চ্যালেঞ্জ। খাল খনন ও স্লুইসগেট মেরামত করা হলে এ অঞ্চলে ফসল উৎপাদন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত