চাঁদপুরে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ব্যবসা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১১ এএম

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে বইয়ের দোকানগুলোয় অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণির নিষিদ্ধ গাইড ও নোটবই। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ গাইড ও নোটবই কিনতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলার ছেঙ্গারচর বাজার, নতুন বাজার, সুজাতপুর বাজার, কালিপুর বাজারে বিভিন্ন বইয়ের দোকানে প্রকাশ্যে সরকার নিষিদ্ধ গাইড-সহায়ক ও নোটবইয়ের জমজমাট ব্যবসা চলছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা যায়, সরকার আইন করে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের নোটবই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশনা, আমদানি, বিতরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের এক রায়ে গাইড ও নোটবই মুদ্রণ ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। ওই আইন অমান্য করলে সাত বছরের সশ্রম কারাদ-, জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধানও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণির অসাধু শিক্ষক ও গাইড বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন এসব বই। বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন মোটা অঙ্কের অর্থ ।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রি বন্ধে প্রশাসন কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা গাইড বই প্রকাশনীর লোকজনের কাছ থেকে মুনাফা পেয়ে সিলেবাসে নিষিদ্ধ গাইড বই তালিকাভুক্ত করেন। আর ওইসব বই অভিভাবকরা চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রকাশনা ও সংস্থা থেকে প্রথমে শিক্ষকদের বিনামূল্যে কিছু গাইড ও নোটবই দেওয়া হয়। বই পড়ে ভালো লাগলে তারপর ছাত্রছাত্রীদের ওই নোটবই কিনতে উৎসাহিত করেন শিক্ষকরাএমনটাই জানিয়েছে প্রকাশকদের পক্ষে নিয়োজিত কয়েকজন মার্কেটিং বিভাগের প্রতিনিধি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিকে সফল করতে হলে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয়। এ ক্ষেত্রে গাইড ও নোট বইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। এ জন্য সরকারিভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে অনেক শিক্ষকই কোনো কিছু বুঝতে পারেন না। তাই পুরনো পদ্ধতিতে পাঠদান করে থাকেন। অনেকে অবহেলাও করেন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের গাইড ও নোটবইয়ের প্রতি আগ্রহ কমছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বলা আছে গাইড বই না কেনার জন্য। তার পরও যদি কোনো স্কুলে নিষিদ্ধ গাইড কেনার বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের তাগিদ দেয়, তাহলে সেসব স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত