পেশাদার লিগের গতবার মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন আলফাজ আহমেদ। সেই মোহামেডান এবারের লিগে ভুগছে ব্যাপকভাবে। কদিন আগের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে হেরে গেছে তারা। আর এই ব্যর্থতার দায় কোচ আলফাজ আহমেদের ওপর চাপিয়ে তাকে বরখাস্ত করেছে নবগঠিত মোহামেডানের পরিচালনা পর্ষদ।
ক্লাবের পরিচালক স্পোর্টস মোস্তাকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ফুটবল দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অত্যান্ত হতাশাজনক যা আমাদের ক্লাবকে বিপর্যয়ের সম্মুক্ষীন করেছে। ফুটবল দলের এরুপ ফলাফলে ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তাসহ মোহামেডানের অগণিত সমর্থকেরা মর্মাহত ও অসন্তষ্টি প্রকাশ করেছে। ফুটবল দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক সাফল্য ও উন্নয়নের দিকে ধাবিত হওয়ার বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ গভীরভাবে বিবেচনা করে জনাব আলফাজ আহমেদকে প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।'
চলমান লিগের বাকী খেলা গুলো সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সহকারী কোচ আব্দুল কায়ূম সেন্টুকে ফুটবল দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব এবং ক্লাবের স্থায়ী সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম বাবুকে ফুটবল দলের সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য টিম লিডার করা হয়েছে।
আলফাজ অবশ্য ক্লাবের সিদ্ধান্তকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিয়েছেন, ‘বিশ্বজুড়েই ব্যর্থ হলে কোচদের চাকুরি যায়। আমার ক্ষেত্রেও এটাই হয়েছে, তাই এতে মন খারাপের কিছু নেই। কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। পাশাপাশি আমার সম্মানীটা যাতে ঠিকঠাক বুঝিয়ে দেওয়া হয়, ক্লাবের প্রতি সেই আহ্বান জানাই। ১০ মাসের চুক্তির মধ্যে ৯ মাস চলছে। মাত্র ২ মাসের বেতন পেয়েছি। বাকীটা কবে পাবো, অব্যাহতির চিঠিতে কিছুই জানানো হয়নি।’
মোহামেডানে বেতন বকেয়া নৈমেত্তিক ব্যপার। এটা কোচদের ক্ষেত্রে যেমন, খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও। দলের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে আলফাজ বলেন, ‘আমরা তো দলবদলেই পিছিয়ে পড়ি। এত বছর তিল তিল করে গড়ে তোলা দলটা এবার ভেঙে গেলো। আর্থিক সঙ্কটে আমরা আমাদের অনেক খেলোয়াড়কে হারিয়েছি। তাছাড়া মোজাফফরভ ছাড়া বিদেশী যারা খেলেছেন, তারা নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। গত মৌসুমে রহমতগঞ্জের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা স্যামুয়েল বোয়েটাংয়ের পারফরম্যান্স এবার নেই বললেই চলে। তাছাড়া খেলোয়াড়রাও ঠিকঠাক বেতন পায়নি। সব মিলিয়ে মাঠে সেরাটা কেউ দিতে পারেনি।‘
'আম্পায়ারকে মারলে কতো দিনের নিষেধাজ্ঞা' পোস্ট করে নিষিদ্ধ ক্রিকেটার