আগামী ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে জমে উঠেছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার। নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে আবারও চিরচেনা রূপে ফিরেছে বিজেপি ও তৃণমূল। একের পর এক জনসভায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করছেন না স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা। গত শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তিনটি করে জনসভা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রতিটি জনসভাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপিকে শূন্য হাতে ফিরতে হবে।
বিজেপি ক্ষমতায় গেলে পশ্চিমবাংলায় ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বাস্তবায়ন করা হবে বলে জঙ্গিপুরের জনসভায় ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনসভায় তিনি বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি বন্ধ করতে পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি কার্যকর করা হবে। কারণ বাংলার মানুষ এখন নিশ্চিত হয়েছে যে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আসল পরিবর্তন জরুরি। তবে ইউসিসির উল্লেখ করে বিজেপি হিন্দু ভোটারদের দলে টানার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেশিয়াড়িরি জনসভায় মমতা বলেন, নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হবে বিজেপিকে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ভারতজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ইউসিসি কার্যকরের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে মোদি সরকার। বর্তমানে বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তরাখণ্ড, গুজরাটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এদিকে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে ইউসিসি চালু কারার ঘোষণা দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত শুক্রবার কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় এমনটা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলায় ইউসিসি কার্যকর করা হবে। সবার জন্য আইন সমান হবে। কাউকে চারটি বিয়ের অনুমতি কি দেওয়া উচিত? ইউসিসি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রথা বন্ধ করা হবে। ইউসিসি চালু হলে ভারতের সব ধর্মের মানুষ একই রকম পারিবারিক বিবাহ ও উত্তরাধিকার আইন মানতে বাধ্য থাকবে। বিরোধীদের দাবি, ইউসিসি চালু হলে মুসলিম এবং জনজাতিদের (স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক পরিচয়ধারী গোষ্ঠী) স্বতন্ত্রতা ক্ষুন্ন হবে। যদিও ইউসিসি চালু হলে কোনো সংখ্যালঘু বা জনজাতি সমাজের সংস্কৃতিতে প্রভাবে পড়বে না বলে দাবি মোদি সরকারের। ইশতেহার ঘোষণার সময় অমিত শাহ আরও বলেন, এই রাজ্যে তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে এবং সোনার বাংলা গড়তে এবার বিজেপিকে ভোট দিন। বিজেপির সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সফল করতে দিন। এই ইশতেহার আগামীতে এই রাজ্যকে সোনার বাংলায় রূপ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী ৪ মে ঘোষণা করা হবে রাজ্যটির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল।