ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে প্রয়োজন হলে আরও ১০০ বার হামলা চালাতেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পদক্ষেপ না থাকলে আজ ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস হয়ে যেত বলেও তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্প একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইরান যখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে ছিল, তখনই তিনি দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার নির্দেশ দেন। তিনি আবারও দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে গেছে এবং দেশটির অর্থনীতি ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। গণমাধ্যমে যা প্রতিফলিত হয় তার বিপরীতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
এদিকে চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে সহায়তা করবে না। চীনসহ বিভিন্ন দেশকে ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টায় যুক্ত হওয়ার মার্কিন আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে চীন এ কথা বলে। রেডিও সাক্ষাৎকারে ইরানকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করা রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন দেখেছি, ইরান এমনকি কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে, যাদের ইরানের প্রতি সমর্থন খুবই কম ছিল।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ না নিলে ইরান এসব দেশকে ধ্বংস করে দিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূখ-ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ এ সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে না। চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের অর্থনৈতিক অভিযান ‘ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে’। তবে তেহরান এ হুমকিকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছে এবং এটি ব্যর্থ হতে বাধ্য বলে তারা মনে করে।
বেইজিংকে এ অভিযানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসান্ট সিএনবিসিকে বলেন, ‘কিছু আলোচনা গোপনে করাই ভালো হবে’। তবে তিনি বেইজিংকে ‘এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার’ আহ্বানও জানান।
স্কট বেসান্টের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘চীন এমন অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে, যার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই এবং যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত নয়।’