ক্যামেলিয়া হাসপাতাল বন্ধ ১৭ দিনে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় টানা ১৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এ হাসপাতাল বন্ধের কারণে ডানকান ব্রাদার্সের বিভিন্ন চা বাগানে ৫ জন চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে শমশেরনগরের চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সিতারাম বীন বলেন, ‘ক্যামেলিয়া হাসপাতালে ১৬ দিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় গত শনিবার ও শুক্রবার দুজন চা শ্রমিক আলীনগরে মারা গেছেন। অপরদিকে কানিহাটি চা বাগানের দুজন শ্রমিক চাতলাপুর চা বাগানের একজন চা শ্রমিক চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। আমি দ্রুত চিকিৎসাসেবা শুরু করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।’

জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি রবিদাস (১৩) মাথাব্যথা নিয়ে গত ২৬ মার্চ বিকেলে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তবে পরিবারের সদস্যরা রাতে স্থানান্তরে রাজি না হওয়ায় পরদিন সকালে হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। আর এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে।

স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং চিকিৎসকদের হেনস্তা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই হাসপাতালের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চা শ্রমিকদের জন্য এই হাসপাতালটি ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র। নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে বাগানের শ্রমিক, তাদের পরিবার এবং কর্মকর্তারা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন। জরুরি প্রয়োজনে আশপাশের সাধারণ মানুষও এখান থেকে সেবা গ্রহণ করতেন। বর্তমানে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চা শ্রমিক পরিবারগুলো।

শমশেরনগর চা বাগানের একাধিক নারী চা শ্রমিক বলেন, ‘এই হাসপাতালই ছিল আমাদের ভরসা। অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এখন আমরা চিকিৎসা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।’

শমশেরনগর চা বাগান সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর গত ২৯ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক উপদেষ্টা রামভজন কৈরী বলেন, ‘কিশোরীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালে হামলা না করে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। দ্রুত হাসপাতালের সেবা চালুর দাবি জানাই।’

তবে শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জের ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত