কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির বসতবাড়ি গত শনিবার রাতে ঘেরাও করে একদল পুলিশ। ওই সময় গ্রেপ্তার করে সভাপতির ছোট ভাই চেক প্রতারণা মামলার আসামি মিজানকে। কিন্তু হ্যান্ডকাফ পরানোর পরপরই মিজান পালিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পলাতক আসামির ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা, আট বছর বয়সী শিশুসহ স্ত্রী এবং ভাবিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ মিজানকে আত্মসমর্পণের শর্ত দেয়। তবুও মিজান ধরা না দেওয়ায় আটকদের নাম উল্লেখ করে ১৫ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে পুলিশ। এ সময় সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে মামলা দায়ের করে উখিয়া থানা পুলিশ আসামিদের গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় আদালতে পাঠায়।
পুুলিশ জানায়, জাফর আলমের ছেলে মিজানুর রহমান একটি চেক প্রতারণা মামলার ছয় মাসের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাকে ধরতেই গত শনিবার রাতে রাজাপালং ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিয়ার বিলের মিজানের বাড়ি ঘেরাও করা হয়। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করে হ্যান্ডকাফ পরানো হলে আসামি চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে আসামির স্বজন ৩০-৩৫ জন নারী-পুরুষ ধারালো অস্ত্র ও কাঠের লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর পুলিশ অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন পলাতক আসামি মিজানুর রহমানের স্ত্রী ফারজানা আক্তার, ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার এবং সভাপতির বাবা জাফর আলম। এ সময় ফারজানার সঙ্গে তার শিশুমেয়েকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
উখিয়া থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলা করে তিন পুলিশ সদস্যকে আহত করে একজন সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে আসামিরা। এ ঘটনায় পুলিশ দুই নারী ও এক পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের সঙ্গে একটি শিশু থাকলেও সে পুলিশের আসামি নয়।’
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ, স্তব্ধ। এ কেমন আচরণ। আসামি পলায়নের দায় কি একজন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধের, নাকি শিশুসহ মায়ের তাই বুঝছি না।’
