বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭২৬.৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এটি আরও কমে ৪ হাজার ৬৪৩ ডলারে নেমে গিয়েছিল, যা গত ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন দাম। এছাড়া জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ০.৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭৪৮.৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। মূলত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর সঙ্গে মার্কিন ডলারের সূচক ০.৩ শতাংশ শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার ব্যর্থতায় যুদ্ধবিরতির আশা ম্লান হয়ে গেছে, যা সরাসরি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। তেলের উচ্চমূল্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে দিতে পারে, যা স্বর্ণের পারফরম্যান্সের জন্য একটি বড় বাধা।

সাধারণত যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্পট গোল্ডের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছে। এর প্রধান কারণ হলো উচ্চ সুদের হার। স্বর্ণ একটি সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ড বা ডলারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এ বছর খুবই কম।

সামগ্রিকভাবে, হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রস্তুতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝেও ডলারের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মূল্যবান এই ধাতু। বাজারের বর্তমান গতিপ্রকৃতি বলছে, যতদিন পর্যন্ত ডলারের মান এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল না হচ্ছে, ততদিন স্বর্ণের দামে এই অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত