বাঙালির কৃষিজ্ঞান চর্চায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে খনার মেলা। জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিযনের প্রত্যন্ত গ্রামে চৈত্র সংক্রান্তিতে এই মেলার আয়োজন করে মঙ্গলঘর পরিসর নামের একটি সংগঠন।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বদরুন নূর চৌধুরী লিপনের বাড়িতে তার তৈরী মঙ্গলঘর পরিসরের আয়োজনে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরের আলো থেকে শুরু হওয়া খনার মেলা ১৪৩২ উপলক্ষ্যে কলকাতাসহ দেশের কবি ও শিল্পীরা অংশ নেন। এই আয়োজনকে ঘিরে এপার বাংলা-ওপার বাংলার কবি ও শিল্পীদের মিলন মেলায় পরিণত হয় গ্রামটি। এতে বাংলার কৃষি, কৃষ্টি, জ্ঞান ও চিন্তার চেতনাকে আবদ্ধ থেকে বাইরে আনা সম্ভব হবে বলে শিল্পীরা মনে করেন।
সাহিত্য সংস্কৃতির উর্বর ভূমি নেত্রকোনার জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের আঙ্গারোয়া গ্রামে গত তিন বছর ধরে চৈত্র সংক্রান্তিতে এই মেলার আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের প্রধান শিল্পী কফিল আহমেদের নেতৃত্বে খনার মেলায় দিনভর নানা আয়োজনে এবার যুক্ত হয়েছে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। গ্রামের বিভিন্ন দৃশ্য এবং কৃষি নির্ভর নানা প্রাকৃতিক পরিবেশ আঁকানো হয় গ্রামের শিশুদের দিয়ে। পরে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয় গাছ দিয়ে। এছাড়াও সকাল থেকে শিল্পীরা গান কবিতা পরিবেশন করে। গ্রাম জুরেও এক আনন্দ বিরাজ করে।
গ্রামের একটি ছোট্ট ঘরে আড্ডায় আড্ডায় বিলুপ্ত হওয়া খনার ইতিহাস ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে প্রথম ১৪৩০ বঙ্গাব্দে এই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর থেকেই ওই ঘরের নামে "মঙ্গলঘর" পরিসরের উদ্যোগে এই খনার মেলা ১৪৩১ ও ১৪৩২ এর আয়োজন করা হয়েছে। খনা এবং মেলাকে একসূতোয় বাঁধতে অর্থাৎ মানুষের বন্ধনকে সূদৃঢ় করতেই এই আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও আরও যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম মৌসুমি ভৌমিক ও কৃষ্ণকলি। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কবি ও শিল্পী এবং বাউলরা এসে গান করেন।
এসময় “চৈতে লতা বৈশাখে পাতা” খনার এমন নানা উক্তি তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে খনার সাথ পরিচয় করানো হয়। আগত শিল্পীরা বলেন, কৃষির সাথে এবং বীজ বপনের খনাকে আবারও মানুষের মাঝে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও বলা হয় এই মেলাকে।
দিনব্যাপী চলা আয়োজনে গান, কবিতা, ছবি আঁকাসহ আড্ডা চলে। আর এতে গ্রামের মানুষেরাও আনন্দ উপভোগ করেন।
