টাঙ্গাইলে সাজ সাজ রব চার স্তরের নিরাপত্তা

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইল আসছেন। এদিন তিনি টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন এবং নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একদিকে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষের আবহ, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনসব মিলিয়ে টাঙ্গাইলজুড়ে এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষপর্যায়ে। এদিন তিনি স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত ‘কৃষি মেলা’র উদ্বোধন ও কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এবং জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য টাঙ্গাইলে দুটি হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, কৃষি মেলা প্রাঙ্গণ এবং মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার এলাকাকে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামে বাসযোগে সড়কপথে টাঙ্গাইলে আসার সম্ভাবনা বেশি।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সমাবেশস্থল পরিদর্শন ও কাজের অগ্রগতি দেখতে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশিদ, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য ও অধিকার পানএই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় দিনটি দ্বিগুণ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, অন্যদিকে দেশের প্রথম কৃষক কার্ড কর্মসূচির যাত্রা, যা টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পাইলটিং ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উচ্ছ্বসিত জেলার সর্বস্তরের মানুষ। টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পরিত্যক্ত এয়ারপোর্টটি পুনরায় চালু করা এবং যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। কৃষক সমাবেশে প্রিয় নেতার জনগুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে আশাব্যঞ্জক ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন জেলাবাসী। শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম, কৃষি মেলা, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারসহ শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ। স্টেডিয়ামে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চার স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। তারা বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন।

প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাও। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ ও শফিকুর রহমান খান জানান, টাঙ্গাইলকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত, শহরের পরিত্যক্ত এয়ারপোর্ট চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ, ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ, সরকারি সা’দত কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা দাবি জানানো হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন জানান, টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার গোড়াই থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করা হবে। তারা খুব আনন্দিত। ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইল।

সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে প্রথমে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। সাড়ে ১০টায় জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘প্রি-পাইলটিং’ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সেখানে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। ভাষণ শেষে পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের মোট এক হাজার ৪৭০ ‘কৃষক কার্ড’ পাচ্ছেন। এর মধ্যে ১০০ কৃষক প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকবেন। আর ১৫ কৃষকের হাতে প্রথানমন্ত্রী সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দেবেন।

এদিকে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিচ্ছে না প্রশাসন। গতকাল টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাবলয় কাজ করছে। সব মিলিয়ে নববর্ষের প্রথম প্রভাতে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত টাঙ্গাইল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত