আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে রাশিয়ার তেল রপ্তানি থেকে আয় দ্বিগুণ বেড়ে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রপ্তানির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দিনে প্রায় ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।
এ বৃদ্ধির পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন কিছু নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেল বিক্রিতে আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে ইতিমধ্যে সমুদ্রে থাকা তেল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ কিনতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ-এর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, গত মাসে রাশিয়ার তেল ও পরিশোধিত পণ্য রপ্তানি প্রতিদিন ৭১ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যার ফলে দেশটির আয় দাঁড়িয়েছে ১,৯০০ কোটি ডলারে। যদিও, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে থাকা রুশ তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের উৎপাদনও গত মাসে বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ৮৯.৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়াকে অনেক কম দামে তেল বিক্রি করতে হতো, কিন্তু বর্তমানে এই ছাড়ের সুযোগে তারা বাজারের স্বাভাবিক দামের কাছাকাছি মূল্যে তেল বিক্রি করতে পারছে। এর ফলে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির আয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামলেও মার্চ মাসে তা ফের বড় ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
আয়ের এই উল্লম্ফন সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছে আইইএ। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বাল্টিক ও কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর এবং তেল শোধনাগারগুলো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানো মস্কোর জন্য কঠিন হতে পারে। এছাড়া ড্রুজবা পাইপলাইনের ওপর হামলার কারণে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় তেল সরবরাহ এখনো বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের জেরে তেলের আকাশচুম্বী দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আইইএ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, উচ্চমূল্য এবং জ্বালানি সংকটের কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা ব্যাপক হারে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
