প্রতারণা করে ১০ তরুণীকে ধর্ষণ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২১ এএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ করেন এক তরুণী। সেই অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে সিরিয়াল (রেপিস্ট) যৌন অপরাধীর খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। গত দেড় মাসে একই ধরনের অন্তত ১০ ভুক্তভোগীর সন্ধান পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। গত সোমবার যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে রেপিস্ট রাশেদুল ইসলাম রাব্বিকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য পায় তদন্তকারীরা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক তরুণীর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসতে থাকে। এখন পর্যন্ত ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে, আসামি নিজে ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

সব ঘটনার ধরন একই। তিনি ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন, কখনো ধর্ষণ করতেন, আবার কখনো ভিডিও ধারণের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করতেন। যেসব ভুক্তভোগীকে পেয়েছি, তারা সবাই মিরপুর এলাকার। ঘটনাগুলোর ধরন শুনলে বোঝা যায়, বাংলাদেশে এই ধরনের আচরণ খুবই অস্বাভাবিক। পুলিশের কাছেও ভিন্নধর্মী মামলা।

তিনি বলেন, আসামি প্রথমে কোনো একজন নারীকে টার্গেট করতেন। শুরুতে কৌশলে ভুক্তভোগীর মোবাইল হাতিয়ে নিয়ে তার সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই নারীর বন্ধু তালিকায় থাকা অন্য মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করতেন। এভাবে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে পরে নানা অজুহাতে তাদের ঘরের বাইরে ডেকে নেওয়া হতো। সাধারণত মেট্রো স্টেশন বা সচিবালয়ের আশপাশে তাদের ডেকে নেওয়া হতো। পরে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজসংলগ্ন এলাকায় বাসায় নিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হতো। এরপর তার সব সামাজিক মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিজের দখলে নিয়ে সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নতুন ভুক্তভোগী খুঁজে বের করতেন। ঘটনাগুলোর সময়সীমা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ৪ মার্চ প্রথম জিডি পাই এবং সর্বশেষ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই দেড় মাসের মধ্যে ১০টি অভিযোগ এসেছে।

ভুক্তভোগীদের অনেকেই শুধু জিডি করতেন উল্লেখ করে মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন সামী বলেন, তদন্ত শুরুর পর প্রথমে অভিযোগ কম পাওয়া গেলেও পরে দেখা যায়, অনেকে সম্মানের ভয়ে সরাসরি অভিযোগ না করে মোবাইল হারিয়েছে উল্লেখ করে জিডি করেছেন। সেই সূত্র ধরে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত