চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আশফাক কবির সাজিদ (১৭) নামে এক কলেজছাত্রকে নির্মাণাধীন ৮ তলা ভবনের ওপর থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকায় ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার সাতজনের নাম উল্লেখ করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ জানান, গ্রেপ্তার চারজনকে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আইমন (২৪), এনায়েত উল্লাহ (৪৭), মিশকাতুল কায়েস (১৯) এবং ভবনের প্রহরী এনামুল হক (৫৫)। পুলিশ জানিয়েছে, এনায়েত উল্লাহ কিশোর গ্যাংয়ের নেতা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আশফাক কবির সাজিদ নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান ফোন করে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেন। সেখানে গেলে কয়েকজন তরুণ তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক ভবনের ভেতরে ঢুকে গেট বন্ধ করে দিয়ে দৌড়ে আটতলায় উঠে যান। এ সময় হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে তারা ভবনের ওপরের অংশে গিয়ে আশফাককে মারধর করে এবং একপর্যায়ে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেয়।
স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বুঝতে পারছি না। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
