বেঁচেই থাকবনে ‘সারেংবউ’

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৭ এএম

‘সারেং বউ’ খ্যাত কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, পরিচালক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা সারাহ বেগম কবরী ‘মিষ্টি মেয়ে’ নামেও পরিচিত সিনেমাপাড়ায়। বর্ষীয়ান এই ব্যক্তিত্বের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে যখন করোনাভাইরাসের মহাতাণ্ডব, ওই বছরেরই ১৭ এপ্রিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থাবা বসিয়েছিল কবরীর শরীরেও। পারিবারিকভাবে শিল্প-সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা, কবরীর জন্মস্থান বোয়ালখালী হলেও তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রাম নগরীতে। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আবির্ভাব হয় তার।  প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক সত্য সাহার মাধ্যমে ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ ছবির নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় জীবন শুরু হয় কবরীর। ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি অর্জন করেছিল আন্তর্জাতিক পুরস্কারও।

অস্বাভাবিক সফলতার সঙ্গে শুরু হয় কবরী অধ্যায়। তার অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে বাহানা, হীরামন, সোয়ে নদীয়া জাগে পানি, নিশি হলো ভোর, সাত ভাই চম্পা, আবির্ভাব, বাঁশরি, অরুণ বরুণ কিরণমালা, শীত বসন্ত, চোরাবালি, পারুলের সংসার, ময়নামতি, আগন্তুক, নীল আকাশের নিচে, পদ্মানদীর মাঝি, নতুন ফুলের গন্ধ, যে আগুনে পুড়ি, আঁকাবাঁকা, সন্তান, নায়িকা, দ্বীপ নেভে নাই, দর্পচূর্ণ, ক খ গ ঘ ঙ, বিনিময়, কত যে মিনতি, অধিকার, ঢেউয়ের পরে ঢেউ, আপন পর, পিতা পুত্র, ঘূর্ণিঝড়, সাধারণ মেয়ে, কাঁচকাটা হীরে, জলছবি, গাঁয়ের বধূ, স্মৃতিটুকু থাক, শেষ রাতের তারা, কমলরাণীর দীঘি, নিজেরে হারায়ে খুঁজি, লালন ফকির, রক্তাক্ত বাংলা, রংবাজ, খেলাঘর, বলাকা মন, যাহা বলিব সত্য বলিব, কে তুমি, তিতাস একটি নদীর নাম, অনির্বাণ, আমার জন্মভুমি, অঙ্গীকার, চোখের জলে, চাবুক, মাসুদ রানা, বেঈমান, অবাক পৃথিবী, পরিচয়, দুইপর্ব, ত্রিরতœ, সুজন সখী, ডাকপিয়ন, লাভ ইন সিমলা, উপহার, চলো ঘর বাঁধি, রক্তের ডাক, গু-া, গোপন কথা, অনুরোধ, মতিমহল, সাগরভাসা, তৃষ্ণা, মমতা, ফরিয়াদ, রক্ত শপথ, অঙ্গার, আগুনের আলো, সারেং বৌ, বধু বিদায়, দিন যায় কথা থাকে, মধুমতি, ছোট মা, আরাধনা, ঈমান, নওজোয়ান, সোনার হরিণ, সোনার তরী, কলমীলতা, লাল সবুজের পালা, স্বামীর সোহাগ, দেবদাস, আরশি নগর, আশা, প্রেমবন্ধন, সোনালী আকাশ, দুই জীবন, চেতনা, ছোট বৌ, লাখে একটা, দয়ামায়া, অপরাজিত নায়ক, দেমাগ, বিয়ের ফুল, আমাদের সন্তান, জীবনের গল্প, আয়না, মেঘের কোলে রোদ, পিতা মাতার আমানত, তুমি আমার স্বামী ইত্যাদি।

কবরী একসময় সরাসরি রাজনীতিতে আসেন। ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট’-এর প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এখন এর একাংশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০৮ সালে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। যুক্ত ছিলেন অসংখ্য নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে। ২০১৭ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’ প্রকাশ পায়। মৃত্যুর আগে কাজ করছিলেন তার পরিচালিত সরকারি অনুদান পাওয়া ছবি ‘এই তুমি সেই তুমি’র। সিনেমায় তিনি নিজেও অভিনয় করেছেন। কবরীর নির্মাণ শুরু হয় ২০০৬ সালে ‘আয়না’ সিনেমা দিয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত