তপ্ত রোদেই বাড়তি সুবিধা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

একটা সময় বাংলাদেশে ক্রিকেটের মৌসুম ছিল শরতের শেষ থেকে বসন্তের শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ ইংরেজি বছরের শেষভাগ ও গোড়ার দিক। তখন আবহাওয়া অনুকূলে, ঝড়বৃষ্টির উৎপাত কম। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজনের জন্য আদর্শ ক্রিকেট মৌসুমেই সময় বরাদ্দের কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ চলে এসেছে গ্রীষ্মকালে। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই এপ্রিল-মে মাসের কাঠফাটা গরমের মধ্যেই হচ্ছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ৫০ ওভারের ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয়নীতির কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো ফ্লাডলাইট না জ্বালিয়েই আয়োজনের পথে হেঁটেছে বিসিবি। বৈশাখের তপ্ত রোদে ১০০ ওভার ক্রিকেট খেলাটা নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জন্য দুঃসাধ্য হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য সেটা মোটেও নতুন কিছু নয়, কারণ বিগত বছরগুলোতে এই সময়েই তো প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নেমেছেন তারা। তাই তো গ্রীষ্মের এই খরতাপ বরং কাজটা সহজ করে দিতে পারে বাংলাদেশের জন্য।

প্রচ- গরম প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে পেসারদের জন্য, ক্রিকেট মাঠে তাদেরই পরিশ্রমের মাত্রাটা সবচেয়ে বেশি। নিউজিল্যান্ডের স্কোয়াডে পেসার তিন জন; বেন লিস্টার, ব্লেয়ার টিকনার ও উইল ও রুর্ক। সঙ্গে দুজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার, জশ ক্লার্কসন ও নাথান স্মিথ। কোচ রব ওয়াল্টার ও অধিনায়ক টম ল্যাথাম হয়তো তিন পেসারের সঙ্গে এক জন অলরাউন্ডার ও দুই জন স্পিনার রাখবেন একাদশে। সেক্ষেত্রে পেস বোলারদের লম্বা স্পেল না করিয়ে ছোট ছোট স্পেলে ভাগ করিয়ে বল করাতে পারেন গরমজনিত চোট থেকে বাঁচাতে। পরিশ্রমের ফলে ঘামের সঙ্গে পানি বেরিয়ে শরীরে সৃষ্টি হয় পানিশূন্যতা, সেখান থেকে মাংসপেশির টান লাগা পেসারদের জন্য খুবই সাধারণ একটা সমস্যা। সেজন্যই তো ল্যাথাম বেশি বেশি পানি পানের বিরতির কথা বললেন, ‘আমরা যেখান থেকে এসেছি, নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়া থেকে এখানকার আবহাওয়া একদমই আলাদা। যতটা সম্ভব মানিয়ে নেব, যতটা পারা যায় কালকের (আজ) জন্য সতেজ আর তৈরি থাকব ১০০ ওভার মাঠে থাকার জন্য, হয়ত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি পানের বিরতির প্রয়োজন পড়বে’।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক পেসার ও বিসিবির পেস বোলিং কোচ তারেক আজিজ খান মনে করেন, গরমে বাংলাদেশের পেসারদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বছরের এই সময়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলার অভিজ্ঞতাই তাদের মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে বেশ লম্বা সময় ধরে কন্ডিশনিং ও ফিটনেস ক্যাম্প হয়েছে ক্রিকেটারদের, সেটাও গরমের সময়েই। তাদের নিয়ে ট্রেনার এবং ফিটনেস কোচ অনেকটা সময় কাজ করেছেন। পেসারদের হয়তো ছোট ছোট স্পেল দিতে হবে। তবে তারপরও সবার ওপরে দল। দলের যদি চাহিদা থাকে তাহলে সেটা আগে, একজন খেলোয়াড় কী করে নিজেকে ফিট রাখবে প্রতিকূল পরিবেশে সেটাও তার পেশাদারির একটা পাঠ। বছরের এই সময়েই তো প্রিমিয়ার লিগে ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলা হয়, সেখানে তো পেসাররা খেলেছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের চেয়ে নিউজিল্যান্ডেরই বেশি সমস্যা হবে গরমে।’

নিউজিল্যান্ড সফরে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও পড়তে হয় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। ঠা-া জোরালো বাতাস, সবুজ ঘাসে ছাওয়া উইকেট...কোনো কিছুই তো বাংলাদেশের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এবারে তাই নিউজিল্যান্ডকেও তপ্ত রোদে শুকনো খটখটে উইকেটে মাঠে নামিয়ে স্বাগতিক হওয়ার ফায়দাটা ভালোই নিতে পারছে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত