অস্ট্রেলিয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানের নারী ফুটবলাররা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দুই ইরানি নারী ফুটবলার। মানবিক ভিসা পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ ও আতেফেহ রামাজানিসাদেহ জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই সমর্থন ও সহমর্মিতা তাদের নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল ইরান নারী ফুটবল দল। সেই সময়েই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের ছয়জন খেলোয়াড় ও একজন কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার কাছে মানবিক আশ্রয়ের আবেদন জানানো হয়। অস্ট্রেলিয়া সরকার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে তাদের ভিসা প্রদান করে।

তবে পরবর্তীতে পাঁচজন সদস্য ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যান। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগ ওমেন্স দল ব্রিসবেন রোয়ারের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছেন। শুক্রবার মেলবোর্নে দেওয়া এক বিবৃতিতে দুই ফুটবলার বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই সুন্দর দেশে আমাদের মানবিক সুরক্ষা এবং একটি নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা চিরঋণী।’

বিবৃতিতে তারা আরও যোগ করেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া এবং নতুনভাবে জীবন গড়া। আমরা পেশাদার অ্যাথলেট এবং অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের ফুটবল ক্যারিয়ার পুনরায় শুরু করাই এখন আমাদের স্বপ্ন।’

ইরানি এই ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় মূলত এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচের পর। সেই ম্যাচে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এর জেরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দেয়। দলের বাকি সদস্যরা গত মাসে তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে বেশ উদ্বেগের মধ্য দিয়ে ইরানে ফিরে গেছেন। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ মনে করছেন, ইরানে ফিরে গেলে তাদের বড় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত