জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের উদাহরণ এখন সবার চোখের সামনে। অন্যায়, অবিচার, লুটপাট ও সন্ত্রাসের পরিণতি কী হয়, তা জনগণ দেখেছে। তিনি বলেন, ৬ বারের এমপিকেও ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। তারা ভেবেছিল এভাবে দিন চলবে, কিন্তু আল্লাহর গজব তাদের ওপর নেমে এসেছে। তিনি ছাত্র সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে ‘মাফিয়া সরকার’ বিদায় হয়েছে এবং দেশের উন্নয়নের পথ সুগম হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, দলীয় বিভাজন ও হয়রানি পরিহার করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কাউকে নিপীড়ন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ভদ্র দলের মতো সংসদে আচরণ করে। একসময় তারা আমাদের মিত্র ছিল। বিএনপি ও জামায়াতকে মিলেমিশে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা যেন ভেঙে না যায়। ঐক্য ভেঙে গেলে বিদেশি শক্তি আবার দেশে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা আমরা কেউ চাই না। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব বেশি উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে-এই সরকার অতীতের মতো লুটপাট করবে না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকারসহ সব নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা হবে, যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু, ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত, উপজেলা বিএসপি নেতা হাসান মাকসুদুর রহমান, জাকির হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।
