পতঙ্গভুক উদ্ভিদ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৮ এএম

পৃথিবীতে এমন উদ্ভিদ আছে, যাদের মাংসাশী উদ্ভিদ বলে। মূলত তারা পতঙ্গভুক। এদের মধ্যে ‘ভেনাস প্লাইট্র্যাপ’ অন্যতম। এদের পাতা দুই অংশে বিভক্তÑ (১) সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম, চ্যাপ্টা, হৃদপিণ্ড সদৃশ অংশ এবং (২) দুটি চ্যাপ্টা লোব, যারা পাতার মধ্যশিরা বরাবর একসঙ্গে যুক্ত। লোবের ভেতরের পৃষ্ঠে ‘এন্থোস্যায়ানিন’ নামের পিগমেন্ট থাকে। লোব দুটির মাঝে একটি ভাঁজ থাকে এবং কিনারা জুড়ে থাকে ট্রিগার নামক কিছু সংবেদনশীল সুতাসদৃশ অংশ। এই ট্রিগার পাতার ফাঁদে আটকা পড়া শিকারকে পালাতে প্রতিরোধ করে। পতঙ্গকে আকৃষ্ট করতে এরা একপ্রকার সুগন্ধী রস উৎপাদন করে এবং সুগন্ধের প্রলোভনে পতঙ্গ এগিয়ে যায় অনাকাক্সিক্ষত পরিণতির দিকে। যখন কোনো পতঙ্গ ট্রিগারে একাধিকবার স্পর্শ করে, তখন আকস্মিকভাবে লোব দুটি ভাঁজ হয় এবং ভেতরে থাকা পতঙ্গ লোবের ফাঁদে আটকা পড়ে। ট্রিগার এত সংবেদনশীল যে, স্পর্শ করার এক সেকেন্ডের দশ ভাগের একভাগ সময়ের মধ্যে লোবের ফাঁদ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর জারক রসের প্রভাবে পতঙ্গ দ্রবীভূত হয়ে পুষ্টি সরবরাহ করে। লোব হতে অ্যান্টিসেপটিক রসও ক্ষরিত হয়, যা মৃত পতঙ্গটিকে প্রায় ১২ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। ফ্লাইট্র্যাপ কেবল আমেরিকার উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনার স্যাঁতসেঁতে জলাভূমিতে পাওয়া যায়। সাধারণত যেসব পরিবেশে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস মাত্রা কম, সেসব পরিবেশে এরা জন্মায়। মানুষের অতিরিক্ত কৌতূহলজনিত কারণে এসব বিচিত্র উদ্ভিদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। সঠিক যতœ পেলে, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ সাধারণত ২০ বছরের বেশি বাঁচে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত