চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ-সীতাকু- নৌরুটে গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও যাত্রী সুবিধার কাক্সিক্ষত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনো দেখা যায়নি। যাত্রী এবং যানবাহন চালকরা প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর নবনির্মিত বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া ফেরিঘাটের দু’পাড়ে যাত্রীদের ওঠানামার নিরাপদ ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে জোয়ারের সময় হাঁটুপানি থাকায় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের পন্টুনে ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ।
গত বছরের ২৪ মার্চ স্থানীয় সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানসহ ছয় উপদেষ্টার উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভার্চুয়ালি এই নৌরুট উদ্বোধন করেন। তখন দ্বীপবাসীর যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।
কুমিরা-গুপ্তছড়া, বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া, গাছুয়া-আমির মোহাম্মদ রুটে যাত্রী পরিবহন থাকলেও, বিশেষ করে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ‘এমভি মালঞ্চ’ ও ফেরি ‘কপোতাক্ষ’-এ প্রতিদিন এক হাজার যাত্রী চলাচল করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই নৌরুটটি চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক এবং স্টাফদের পদায়ন সীমিত। আর কারও পদায়ন হলেই শুরু হয় বদলির চেষ্টা। ফলে চার লাখেরও বেশি দ্বীপবাসীর দুর্ভোগের সীমা নেই। আবহাওয়া খারাপ হলে নৌ-যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রসূতি ও মৃত্যুপথযাত্রীদের জন্যও নেই ইমার্জেন্সি সেবা। দ্বীপে নেই আইসিইউ, সিসিইউ বা অত্যাধুনিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক চিকিৎসক বলেন, ‘সন্দ্বীপের মানুষ সবচেয়ে অবহেলিত। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে প্রায় সব মৌলিক চাহিদা থেকে তারা বঞ্চিত। এখানে চেম্বার করা আমাদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ, বাধ্য হয়ে রোগীকে শহরে রেফার করতে হয়।’
সরেজমিনে দেখা যায়, জোয়ারের সময় যাত্রীদের নড়বড়ে কাঠের সেতু দিয়ে ওঠানামা করতে হয়। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এছাড়া লবণাক্ত পানিতে ওঠানামার কারণে যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। ফেরিঘাটের হাইওলো ওয়াটার পয়েন্ট নির্মাণ করা হলেও জোয়ারের সময় জাহাজ তা ব্যবহার করতে পারছে না। বাঁশবাড়িয়া ঘাটে ঢেউয়ের আঘাতে জিও ব্যাগ ও পাথরের ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাও সংস্কার করা হয়নি। ফলে যাত্রীদের হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
মালবাহী ট্রাকচালক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘জোয়ারের সময় ট্রাক চালিয়ে পন্টুনে ওঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। লোনা পানিতে গাড়ির বডি ও যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে, জোয়ার বেশি হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।’
দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ফেরিঘাট চালু হলেও নিরাপদ যাত্রী আন্দোলনের নেতা ও সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি ওমর ফয়সাল বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দ্বীপবাসী ক্ষুব্ধ।’ ‘বিআইডব্লিউটিএকে বিষয়টি জানিয়েছি উল্লেখ করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘অবিলম্বে সমস্যার সমাধান না হলে বর্ষায় যাত্রীদের ভোগান্তির সীমা থাকবে না।’
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক নয়ন শীল বলেন, ‘যাত্রী ও যানবাহন পারাপার সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’
