২০২৬ সালের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আশকোনা হজক্যাম্পে যান এবং সেখানে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর ফ্লাইটের আগে তিনি বিমানে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া চান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ানুযায়ী, রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ফ্লাইটটি ৪১৯ হজযাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যাবেন।
হজযাত্রী পরিবহনে অংশ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদি এয়ারলাইনস এবং ফ্লাইন্যাস। আগামী ২১ মে পর্যন্ত হজযাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হবে।
হজক্যাম্পে ভিড় হজযাত্রীদের : ফ্লাইট শুরুর প্রাক্কালে হজক্যাম্পে আসতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। তাদের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে হজযাত্রীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল তিনি আশকোনা হাজিক্যাম্পে তিনি উপহারসামগ্রী পাঠিয়েছেন বলে জানান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দীক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আল্লাহর মেহমানদের জন্য কয়েক ধরনের উপহারসামগ্রী পাঠানো হয়। তার মধ্যে এক লাখ বোতল মিনারেল ওয়াটার, যা হজক্যাম্পে আগত হজযাত্রীদের সরবরাহ করা হচ্ছে। তা ছাড়া উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের জন্য ব্যাকপ্যাক, ইহরাম সাবান, পানির পট, পেট্রোলিয়াম জেলি, মেসওয়াক ও আজওয়া খেজুর প্রেরণ করা হয়েছে। এ উপহারসামগ্রী প্যাকেটজাত করা হয়েছে এবং তা উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
ক্যাম্পে কঠোর নিরাপত্তা : আশকোনার হাজিক্যাম্পে সরেজমিন দেখা গেছে, হজযাত্রীরা ক্যাম্পে এসে অবস্থান নেওয়া শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে হজক্যাম্পে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।
এ সময় কথা হয় গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীর হজযাত্রী শামসুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে তিনি হজক্যাম্পে এসেছেন। ক্যাম্পের সুযোগ-সুবিধার সš ‘ষ্টি জানিয়ে বলেন, আজ শনিবার তার ফ্লাইট। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি। নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকা থেকে আসা আরেক হজযাত্রী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ। এখন ভালোভাবে গিয়ে হজ সম্পন্ন করে যেন ফিরতে পারি সেই দোয়া করবেন।’
ক্যাম্পের ভেতরেই ইমিগ্রেশন : জানা যায়, হজক্যাম্পেই সব হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তা তল্লাশি। ক্যাম্পেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে এখান থেকেই বাসে চড়ে সোজা ফ্লাইটে উঠে যাবেন।
এদিকে হজযাত্রীর নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। সেই সঙ্গে পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ওসি মোবারক হোসেন বলেন, যথেষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ কাজ করবে।
জানা গেছে, মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, চারটি সৌদি আরবের সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। আগামী ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রি-হজ ফ্লাইট ২০৭টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১০২টি, সৌদিয়া ৭৫ এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে। শেষ হবে ১ জুলাই।