সন্তানের চাওয়ায় পিতার দাফন সম্পন্ন

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৫ এএম

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় কাজী সোহাগ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে স্বজনদের মধ্যে দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার শেষ যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। প্রয়াতের মরদেহ দাফন না অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে তা নিয়ে টানাপড়েনের সৃষ্ট হয়। অবশেষে স্থানীয় প্রশাসন মৃতের ৯ বছর বয়সী ছেলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দাফনের সিদ্ধান্ত দিলে মৃতের দাফন সম্পন্ন হয়। 

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মৃতের ছেলে আব্দুর রহমানের কাছে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন জানতে চাইলে সে জানায়, তার বাবাকে দাফন করা হোক। পরে মরদেহ তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতায় পড়া ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে। প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে একটি ছেলে রয়েছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। সোহাগের মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য মরদেহ নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী মমতাজ মিম ও মাদ্রাসাপড়–য়া ছেলে আব্দুর রহমান প্রতিবাদ জানায়।

তারা মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কবরস্থানে দাফনের দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ-প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং সেই বিবেচনায় দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে যাওয়ার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক জানান, মৃত ব্যক্তির সন্তানের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত