সংকটাপন্ন পেশায় বৈধতা সীমিত

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম

গুরুতর শ্রমিক সংকটে থাকা পেশাগুলোর আওতায় ২০২৫ সালে ১ হাজার ৬৫৫টি রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু করেছে ফরাসি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেফেক্টদের উদ্দেশে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পাঠানো ওই বার্তাটি বার্তা সংস্থা এএফপি পর্যালোচনা করেছে। এএফপি জানায়, ফ্রান্সে সংকটাপন্ন পেশার আওতায় ব্যতিক্রমী ভিত্তিতে (এইএস) বৈধতা পাওয়ার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। সরকারের হিসাবে, প্রায় ৮০টি পেশাকে বর্তমানে ‘সংকটাপন্ন পেশা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে শ্রমিক সংকট থাকায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অনিয়মিত অভিবাসীরা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জমা পড়া আবেদনগুলোর মাত্র ৫০ শতাংশ প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়েছে। একই প্রবণতা ২০২৬ সালের শুরুতেও দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে তিনি প্রেফেক্টদের এ ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ প্রক্রিয়া কোনোভাবেই আবেদনকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার অধিকার তৈরি করে না।

সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে অর্থনৈতিক কারণে ব্যতিক্রমী বৈধতার আওতায় মোট ৯ হাজার ৬৯০টি রেসিডেন্স পারমিট প্রদান করা হয়েছে।

সংকটাপন্ন পেশার তালিকা ও শর্ত

২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত হালনাগাদ তালিকায় প্রায় ৮০টি পেশাকে সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব খাতে শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অনিয়মিত অভিবাসীরা বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে গত ২৪ মাসে অন্তত ১২ মাসের বেতনের প্রমাণ দিতে হবে ও ফ্রান্সে কমপক্ষে তিন বছরের বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে।

এই তালিকা ২০২৪ সালের অভিবাসন আইনের অংশ হিসেবে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং প্রতি বছর তা হালনাগাদ করার কথা রয়েছে। তালিকাভুক্ত পেশাগুলোর মধ্যে কৃষিশ্রমিক, নার্স, গৃহসহায়িকা, রান্নাঘরের সহকারী, রাঁধুনি, নির্মাণ শ্রমিক, হোটেল কর্মী ও উদ্যানপালক উল্লেখযোগ্য। কিছু পেশা নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, তালিকাটি আংশিক ইতিবাচক হলেও বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন পুরোপুরি ঘটেনি।

অনেক বড় খাত যেমন নির্মাণ, রেস্তোরাঁ, লজিস্টিকস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তালিকার বাইরে রয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক অনিয়মিত অভিবাসী কাজ করেন। এ ছাড়া কিছু পেশা, যেমন ওয়েটার বা রান্নাঘরের সহকারী, দেশজুড়ে সংকটাপন্ন হলেও নির্দিষ্ট অঞ্চলে তা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিতকরণ ৪২ শতাংশ কমেছে। কাজের ভিত্তিতে বৈধতা কমেছে ৫৪ শতাংশ। এই পতনের পেছনে পূর্বের কঠোর নীতিমালা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

নিয়োগকর্তাদের জন্য বার্তা দিয়ে সরকার জানিয়েছে, অনিয়মিত শ্রমিক নিয়োগ করলে নিয়োগকর্তাদের সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদ- হতে পারে। ফলে বৈধতা প্রক্রিয়া নিয়োগকর্তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বহিষ্কার নীতিতে কড়াকড়ি, একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে। জননিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের আটক ও বহিষ্কারে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বহিষ্কারের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশিদের নিয়মিত হওয়ার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী বৈধতার সুযোগ পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংকটাপন্ন পেশার আওতায় বৈধতার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে তা সীমিত। কঠোর নীতিমালা, ধীর প্রক্রিয়া এবং অসম্পূর্ণ তালিকার কারণে এই উদ্যোগ এখনো প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত