পূর্ব উপকূলে উত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করতে আবারও উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলে একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এটি চলতি বছরের সপ্তম এবং শুধু এপ্রিল মাসেই চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের সিনপো শহরের কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়।

জাপান সরকার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের কাছে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের পরীক্ষা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই জাতিসংঘের এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, এটি আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকার।

দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে বলেন, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতির দিকে বেশি মনোনিবেশ করছে, উত্তর কোরিয়া বিষয়টিকে তাদের পারমাণবিক শক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উন্নত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।

আগামী মে মাসের মাঝামাঝিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি সম্মেলনে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উত্তর কোরিয়া ইস্যু নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এই শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটল।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি গত বুধবার সতর্ক করেছেন যে, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় 'অত্যন্ত গুরুতর' অগ্রগতি করেছে। সম্ভবত তারা নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রও যুক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, গত মার্চের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঘোষণা করেছিলেন যে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান এখন অপরিবর্তনীয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে 'আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধ' ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র: রয়টার্স

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত