আরও ১৭১ জন সরকারি ভাতার আওতায়

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৭ এএম

৩০ মার্চ এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। বিভিন্ন খেলার ক্রীড়াবিদদের মাসিক ভাতার আওতায় নিয়ে আসে সরকার। সেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেন ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের। ২০২৫ সালে সাফল্য এনে দেওয়া বিভিন্ন খেলার ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে প্রথম প্রস্থে আনা হয় ভাতার আওতায়। মাসে ১ লাখ টাকা করে ভাতা নির্ধারণ করা হয় প্রত্যেকের জন্য। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার আরও ১৭১ জনকে দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া ভাতা। যদিও প্রথমবারের মতো এবারও ভাতার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের সব সদস্যের জায়গাই হয়নি তালিকায়।

দুই প্রস্থে চলতি অর্থবছরে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দিচ্ছে সরকার। চার মাস পর তাদের পারফরম্যান্স আনা হবে আতশি কাচের তলে। পারফরম্যান্স দিয়েই তাদের ভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে ক্রীড়াবিদ বাছাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অদূরদর্শিতায় পুরো উদ্যোগটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। প্রথম প্রস্থে এমন কিছু খেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যে সব খেলার সেভাবে প্রচলনই নেই। আন্তর্জাতিক সাফল্যও নেই বলতে গেলে। যার অন্যতম সাফাক টেকরো, ইয়োগা, ব্রিজ অন্যতম। রবিবারের তালিকায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বেশ কিছু ফুটবলারকে বঞ্চিত করায়। পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল সর্বশেষ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলেছে। সেই দলের ২৩ জনের সবাই পাননি সরকারি ভাতা। পাঁচ প্রবাসী হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, তারেক কাজী ও জায়ান হাসানকে রাখা হয়নি বিদেশে ক্লাবে ভালো বেতন পান বলে। তবে সিঙ্গাপুরের স্কোয়াডে থেকেও ভাতার জন্য বিবেচিত হননি লেফটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষ এবং দুই ফরোয়ার্ড সুমন রেজা ও আরমান ফয়সাল আকাশ। অথচ শেষ দুই ম্যাচে দলে না থেকেও ভাতার তালিকায় চলে এসেছেন তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন ও সোহেল রানা জুনিয়র।

নারী জাতীয় ফুটবল দলে বঞ্চিতের সংখ্যা আট জন। মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ওমেন্স এশিয়ান কাপের দলে খেলোয়াড় ছিল ২৬ জন। অথচ আটজনকে বাদ দিয়ে ভাতা দেওয়া হয়েছে ১৮ জনকে। সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রবাসী বলে। তবে স্বর্ণারানী ম-ল, হালিমা আক্তার, উন্নতি খাতুন, সুরভী আক্তার আরেফিন, আইরিন খাতুন, মোসাম্মৎ সুলতানা ও আলপি আক্তারের বাদ দেওয়াটা তাদের সঙ্গে এক প্রকার অন্যায়।

সরকারের এ রকম সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে মিলেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনেরও দায়। ক্রীড়াবিদ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত কমিটির প্রধান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান খাঁন জানিয়েছেন, বাফুফে থেকেই তাদের কাছে পুরুষ ও নারী দলের ১৮ জন করে ফুটবলারের নাম এসেছে, ‘চলতি অর্থবছরে সরকারের কাছ থেকে আমরা ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়ার বাজেট পেয়েছি। প্রথম প্রস্থে ১২৯ জন ও দ্বিতীয় প্রস্থে আজ (রবিবার) ১৭১ জনকে দেওয়া হয়েছে। ফুটবল দল দুটির নামের তালিকা বাফুফে থেকে আমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমরা কেবল যাচাই করে দেখেছি তালিকায় থাকা নামগুলো সর্বশেষ জাতীয় দলের তালিকায় ছিল কি না।’

ক্রীড়াবিদ বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আমিনুল এহসান জানান, সরকার থেকেই বাফুফেকে ১৮ জন করে নামের তালিকা চাওয়া হয়, ‘যেহেতু চলতি অর্থবছরে ৩০০ জনকে ভাতার আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা ছিল তাই কিছু কাটছাঁট আমাদের করতে হয়েছে। ফুটবল ফেডারশনের কাছে আমরা ১৮ জন করে নামের তালিকা চেয়েছি। তাদের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী আমরা ভাতা দিয়েছি। এর ফলে হয়তো কিছু খেলোয়াড় বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে, তবে তাদের জানাতে চাই, দুমাস পরে অর্থাৎ নতুন অর্থবছরে আমরা প্রাথমিক লক্ষ্য অনুযায়ী ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া শুরু করব। তখন অবশ্যই বাদ পড়াদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

রবিবার ফুটবলার ও হকি থেকে ৩৬ জন করে, ভলিবল খেলোয়াড় ১৪ জন, ১১ জন করে আরচার ও দাবাড়–, হ্যান্ডবল ও ভারোত্তোলন থেকে ১০ জন করে, ৯ জিমন্যাস্ট, ছয় সাঁতারু, পাঁচ শুটার, পাঁচ টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, চার সাইক্লিস্ট, চার উশু খেলোয়াড়, তিন জুডোকা, দুই বডি বিল্ডার, দুই কিক বক্সার, দুই টেনিস খেলোয়াড় ও একজন ট্রায়াথলারকে ভাতার আওতায় এনেছে সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত