মেসির জোড়া গোলে নতুন কোচের রঙিন অভিষেক

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৭ এএম

কলোরাডো র‌্যাপিডসের ঘরের মাঠের দর্শক ধারণক্ষমতা ১৮ হাজারের একটু বেশি। অস্থায়ী চেয়ার বসিয়ে যা সাড়ে ১৯ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো যায়। লিওনেল মেসিকে চোখের সামনে দেখার আগ্রহ তো কয়েক গুণ বেশি মানুষের! ম্যাচটি তাই সরিয়ে নেওয়া হলো ডেনভারের এম্পাওয়ার ফিল্ডে, দর্শক ধারণক্ষমতা যেখানে ৭৬ হাজারের একটু বেশি। মেজর লিগ সকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৫, ৮২৪ দর্শকদের জন্য মেসি তুলে ধরলেন তার জাদুর প্রদর্শনী। নিজেদের দল কলোরাডা র‌্যাপিডসকে ৩-২ গোলে হারতে দেখলেও মেসির নৈপুণ্যে নিশ্চয়ই মন ভরেছে এই দর্শকদের।

এই জয়ের মাধ্যমে নতুন কোচ গিলেরমো হোয়োসের অভিষেক যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকল, তেমনি এমএলএসে টানা সাত ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল মায়ামি।

ম্যাচের শুরুটা মায়ামির জন্য কিছুটা মন্থর হলেও ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। বক্সে ইয়ানিক ব্রাইটকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় মায়ামি। ভিএআর চেকের পর মেসি ঠা-া মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে মেসির পাস থেকে মাতেও সিলভেত্তির ক্রসে হেড করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান বারতেরামে।

দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রপট বদলে যায়। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল নাভারো একক নৈপুণ্যে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ কমিয়ে আনেন। এর ঠিক চার মিনিট পরেই বদলি খেলোয়াড় ড্যারেন ইয়াপি পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে কলোরাডোকে ২-২ সমতায় ফেরান। গ্যালারিতে তখন স্তব্ধতা।

ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে যাচ্ছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির মেসি। ৭৯ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢোকেন তিনি। তিনজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমেই চলতি মৌসুমে মেসির গোল সংখ্যা দাঁড়াল সাতে, যা লিগের সর্বোচ্চ। আর তার ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা এখন ৯০৫।

ব্যক্তিগত কারণে গত মঙ্গলবার হাভিয়ের মাশচেরানো পদত্যাগ করার পর ইন্টার মায়ামির অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ৬২ বছর বয়সী গিলেরমো হোয়োস। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত হোয়োস বলেন, ‘আমাদের কাছে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় আছে, যে একা হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।’

ম্যাচের শেষ দিকে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। ৮৭ মিনিটে সতীর্থ টেলাস্কো সেগোভিয়ার হলুদ কার্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট। ফলে শেষ কয়েক মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মায়ামিকে। মেসির নৈপুণ্যে নিশ্চয়ই মন ভরেছে এই দর্শকদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত