তেল ডালডা ও বাটার নিয়ে উদ্বেগ 

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

বাসাবাড়ি বা রেস্তোরাঁয় ব্যবহার করা ভোজ্যতেল, ডালডা ও বাটারে নমুনায় মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড (স্বাস্থ্য ক্ষতিকর তেল) পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। গতকাল সোমবার বিএফএসএ এবং মুয়েঞ্জার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ‘মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ব্যবহৃত রান্নার তেলের ক্ষতিকর প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব।

বিএফসিএ প্রশিক্ষণকক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুয়েঞ্জারার দক্ষিণ এশিয়ার প্রজেক্ট ম্যানেজার মার্টিন শেস্ট্যাগ, বিএফএসএর সদস্য আ ন ম নাজিম উদ্দীন এবং ড. মোহাম্মদ মোস্তফা।

বিএফসিএর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা খুব ভাগ্যবান যে, এ পৃথিবীতে বসবাস করার সুযোগ পেয়েছি। অন্য কোনো গ্রহ বসবাসের জন্য এতটা উপযুক্ত নয়। আমরা যদি সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই পোড়া তেলের ব্যবহার বাদ দিতে হবে। এ সময় তিনি মুয়েঞ্জারকে ইতিবাচক কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের কার্যক্রমকে প্রান্তিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করার অনুরোধ জানান। যাতে পরিবেশ ও মাটির সঙ্গে মিশে এসব পোড়া তেল বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করতে না পারে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তিনি পোড়া তেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর ২ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু শিল্পজাত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে ঘটে। ট্রান্সফ্যাট রক্তনালিতে জমে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৯ জন হৃদরোগে মারা যায় এবং এদের মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ মৃত্যুর সঙ্গে ট্রান্সফ্যাট ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ প্রণয়ন করে, যা ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সালে কার্যকর হয়। এই প্রবিধানমালায় ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিধান সব ধরনের প্রক্রিয়াজাত, প্যাকেটজাত ও প্রস্তুত খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১১টি সয়াবিন তেলের নমুনার মধ্যে ৭টি, ৯৫টি ডালডার নমুনা থেকে ৯৩টি, ৩০টি বাটারের নমুনা থেকে ২৬টি এবং ১৪টি মার্জারিনের নমুনা থেকে ৬টি নমুনায় মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড (ক্ষতিকর তেল) পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান করেন।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ড. আহমেদ খায়রুল আবরার বলেন, পোড়া তেল ক্যানসার সৃষ্টি করে। যারা পোড়া তেলে ভাজাপোড়া করেন, তাদেরও ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো তেল ২-৩ বারের বেশি ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত