এসএসসি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে ১৪ নির্দেশনা

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২ এএম

দেশজুড়ে আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

এবারের পরীক্ষার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা এ বছর ৭১ হাজার ৬২৬ জন হ্রাস পেয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমলেও ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে। এই বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৯ জনে। এছাড়া কারিগরি বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমলেও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী (৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন) অংশ নিচ্ছে। এরপরেই রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ (৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন) এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ (২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন)। মজার বিষয় হলো, মানবিক ও বিজ্ঞান উভয় বিভাগেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণের হার বেশি। তবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে।

বোর্ডভিত্তিক অবস্থানের দিক থেকে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বোর্ড, যেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরীক্ষার্থী মাদ্রাসা বোর্ডে (৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন)। অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৭ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী নিয়ে পরীক্ষা শুরু করছে সিলেট বোর্ড (৮৯ হাজার ৪২১ জন)।

সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় সাধারণ ও বিজ্ঞান বিভাগ মিলিয়ে ৩ লাখের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল কোর্সে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতি বোর্ডের ১৪ নির্দেশনা—

১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

২. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

৩. প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করবে।

৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে।

৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করা যাবে না।

৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের ভেতর প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।

১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।

১১. কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।

১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।

১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকা ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত