অনেক বাবা-মা স্কুলে পাঠানোর আগে শুধু অক্ষর, সংখ্যা ও ছড়া শিখিয়ে থাকেন। কিন্তু একটি শিশুর স্কুলে সফলতার জন্য শুধু অক্ষর, সংখ্যা বা ছড়া শেখাই যথেষ্ট নয়। এগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু জীবন দক্ষতা শিশুকে জানতে হয়। না হলে শিশু স্কুলে সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে চলতে পারে না। ফলে ক্লাসে অমনোযোগিতা থেকে শুরু করে স্কুলে যেতে না চাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আসুন জেনে নিই স্কুলে যাওয়ার আগেই শিশুর কী কী দক্ষতা অর্জন করা জরুরি।
পটি করা বা ওয়াশরুম ব্যবহারের দক্ষতা
শিশুরা অনেক সময়ে স্কুলে কে তাকে পটি করিয়ে দেবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে স্কুলে যেতে ভয় পায়। তাই শিশুকে স্কুলে পাঠানোর আগেই তাকে নিজে নিজে কীভাবে পটি করতে ও পরিষ্কার হতে হয় তা শেখাতে হবে। না পারলে কার কাছ থেকে ও কীভাবে পটি করার জন্য সাহায্য চাইতে হয় তা শেখাতে হয়। স্কুলে কোথায় ওয়াশরুম রয়েছে তা দেখিয়ে দিতে হয়। এছাড়া ওয়াশরুমের চিহ্নগুলো কেমন সেগুলো শেখাতে হয়। যেমন : {চিত্র} এটি ছেলেদের ও {চিত্র} এটি মেয়েদের টয়লেট।
মতামত প্রকাশ করতে পারা
প্রি-প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুরা তাদের সব কথা প্রকাশ করতে পারবে তা নয়। কিন্তু তারা অপরিচিত ব্যক্তির কাছেও নিজের অনুভূতি, প্রয়োজন বা অসুবিধা যাতে প্রকাশ করতে পারে তা শেখাতে হবে। তবে প্রকাশটি ভাষায়, অঙ্গভঙ্গি বা অন্য যে কোনো উপায়ে হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পছন্দ করা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। বাবা-মায়ের অতি নির্ভরশীল শিশুকে একটি প্রশ্ন করলে শিশু অসহায় অনুভব করবে ‘এখন তো আম্মু নেই আমাকে কে বলে দেবে?’
সামাজিক দক্ষতা
শিশুর স্কুলে যাওয়ার আগেই সব সামাজিক দক্ষতা শিখে যাবে তা নয়। কিন্তু কিছু সামাজিক দক্ষতা বাড়ি থেকে শিখে না গেলে স্কুলে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে অসুবিধায় পড়তে পারে। তাই শিশুকে ন্যূনতম কিছু সামাজিক দক্ষতা অবশ্যই শেখাতে হবে। যেমন : আদান-প্রদান, পালা আসার জন্য অপেক্ষা, সালাম বা শুভেচ্ছা দেওয়া, রোল বা নাম কলে উত্তর দেওয়া ইত্যাদি।
মনোযোগ
শিশুর ক্লাসে মনোযোগ দেওয়ার ও গল্প বললে মনোযোগ দিয়ে শোনার ক্ষমতা থাকতে হবে। এই বয়সী শিশুরা সাধারণ ১৫-২০ মনোযোগ দিতে পারে। তবে একটি বিষয়ে অন্তত পাঁচ মিনিট মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা থাকা দরকার। মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলা রয়েছে যা বাসায় খেলানো যেতে পারে।
নির্দেশ পালনের দক্ষতা
শিশুর নির্দেশ পালনের দক্ষতা থাকতে হয়। না হলে শিশু ক্লাসে গিয়ে শিক্ষকের কথা অনুযায়ী বিভিন্ন কাজে অংশ নিতে পারবে না। তাই শিশুকে নির্দেশ পালনের অভ্যাস করানো যেতে পারে।
আবেগের দক্ষতা
শিশুর মধ্যে স্কুল নিয়ে লজ্জা, ভয় বা নার্ভাসনেসের মতো নেতিবাচক আবেগ থাকলে তাকে প্রকাশ করতে দিতে হয় ও আশ্বস্ত করতে হয় যে এই ধরনের আবেগ হওয়া খুব স্বাভাবিক এবং ধীরে ধীরে তা ঠিক হয়ে যাবে। পাশাপাশি কীভাবে নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয় তাও শিখিয়ে দিতে হয়। তার সঙ্গে স্কুল স্কুল খেলা যেতে পারে। বেশির ভাগ সময়ে বাবা/মাকে শিক্ষার্থী সাজতে হবে। এটি তার মধ্যে থেকে ভয় ও নার্ভাসনেস কমাবে। সেপারেশন অ্যাংজাইটির কারণেও শিশুর স্কুলে যেতে সমস্যা হতে পারে তাই শিশুকে অনেক আগে থেকেই একটু একটু করে শিশুকে বিদায় জানাতে শেখান।
এছাড়া ছোট শিশুরা স্কুলে যাওয়া শুরু করলে প্রথমবারের মতো জীবনধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হয়। তাকে সকালে উঠতে হয়, একা টয়লেটে যেতে হয়, স্থির হয়ে বসতে হয়, শিক্ষকের কথা শুনতে হয়, বাবা-মাকে ছেড়ে থাকতে হয়। এসব হুট করে শুরু হলে তার মধ্যে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই এসব অভ্যাস তৈরির জন্য স্কুল শুরুর বেশ আগে থেকে প্রস্তুতি নিন।