পুলিশের পোশাক বদলাচ্ছে

শার্টের রঙ নীল ও জলপাই প্যান্ট খাকি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে পরিবর্তন করা পুলিশের পোশাক নিয়ে বাহিনীটির মধ্যে তীব্র অসন্তোষের মুখে আবারও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ‘বিরূপ মনোভাব’ এবং জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন রঙের পোশাক নির্ধারণ করে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস-২০২৫’ সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন পোশাকের শার্টের রঙ হবে গাঢ় নীল এবং হালকা জলপাই রঙের। তবে দুই ক্ষেত্রেই প্যান্টের রঙ হবে খাকি। কিন্তু প্যান্টের রঙ নিয়ে পুলিশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শার্টের পাশাপাশি প্যান্টের রঙও পুরনো আগের মতোই করার দাবি জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে প্যান্টের রঙ নিয়ে যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল শুরু হয়েছে। 

পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখা  থেকে পাঠানো প্রস্তাবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য নতুন রঙের পোশাক সুপারিশ করা হয়েছে। এতে মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্টের রঙ হবে হালকা জলপাই এবং জেলা ও অন্যান্য পুলিশের শার্টের রঙ হবে গাঢ় নীল। এ ছাড়া সবার প্যান্টের রঙ হবে খাকি। তবে এ পরিবর্তনের আওতার বাইরে থাকবে এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র‌্যাব। গত ১৫ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয় বর্তমান ‘লৌহ’ রঙের শার্ট এবং ‘কফি’ রঙের প্যান্ট প্রবর্তন করার পর থেকেই মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিরূপ মনোভাব দেখা গেছে। পুলিশ সদস্যরা সামাজিক মাধ্যমে ট্রল বা ব্যঙ্গের শিকার হওয়ায় পেশাগতভাবে হীনম্মন্যতায় ভুগছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, বর্তমান পোশাকের সঙ্গে অন্যান্য কিছু সংস্থার ইউনিফর্মের মিল থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিক বিভাগের ডিআইজি সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, পোশাক পরিবর্তনের জন্য সরকারের কোনো অতিরিক্ত আর্থিক খরচ হবে না। কারণ পুলিশ সদস্যদের বার্ষিক প্রাপ্যতার ভিত্তিতেই নিয়মিত ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারি হলে পরবর্তী বিতরণের সময় নতুন রঙের পোশাক সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ২০০৩-২০০৪ সালে প্রবর্তিত খাকি ও নীল রঙের পোশাকটিই বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং গায়ের রঙের সঙ্গে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। অন্তর্র্বর্তী সরকারের দ্রুততম সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এখন নির্বাচিত সরকারের আমলে সেই ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই পোশাক পবির্তনের উদ্যোগ।

পুলিশের ওই চিঠিতে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস-২০২৫’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিগুলো সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় এই বিধি সংশোধন ও প্রজ্ঞাপন জারি করলেই দ্রুততম সময়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের গায়ে নতুন রঙের এই ইউনিফর্ম দেখা যাবে। আগে জারি করা প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্টের রঙ গাঢ় ধূসর এবং প্যান্টের রঙ গাঢ় নীল থেকে পরিবর্তন করে শার্ট লোহার রঙ ও প্যান্ট কফি রঙ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাঠ পর্যায়ে এ পরিবর্তন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন রঙের নমুনা পর্যালোচনা করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন করে পোশাকের রঙ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত