গণপরিবহনে ঘোষণার আগেই বাড়তি ভাড়া

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ এএম

বাস ভাড়া বাড়ানোর আলোচনার মধ্যেই রাজধানীর অনেক গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়ে গেছে। ঘোষণা আসার আগেই ভাড়া বাড়ানোর কারণে যাত্রী-হেল্পারের মধ্যে চলে বাচসা। হেলপার-চালকরা বলছেন, তারা জ্বালানি তেল বাড়তি দামে কিনছেন, এ কারণে ভাড়া বাড়িয়েছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, গত সোমবার থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যে সর্বনিম্ন ৫ টাকা বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবে কিছু কিছু গণপরিবহন এখনো সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে। তারা ভাড়াও নিচ্ছে আগের মতো।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে বাড়ানো হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার  সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এখন জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি এটা যৌক্তিকভাবে হবে। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে সরকারের সঙ্গে।’

তিনি বলেন, ‘যতটা কম ক্ষতি করে কম ভাড়া বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করবে সরকার। তিন স্তরে এসি বাসের ভাড়াও সমন্বয় করা হবে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বাড়লে পণ্যের মূল্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকার চেষ্টা করবে যেন সাধারণ মানুষের ওপর কম চাপ পড়ে।’

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর তৎপরতা শুরু করেন মালিকরা। দাম বাড়ার প্রথম দিন রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বৈঠকে মালিকপক্ষের বাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে ওই সময় সরকারি সিদ্ধান্তে পরিবহন ভাড়াও বাড়ানো হয়। ওই সময় দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ দশমিক ২০ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২ দশমিক ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

জানা গেছে, ‘রমজান’ বাসে কাকরাইল থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভাড়া ছিল ১৫ টাকা। সোমবার থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে অনেক যাত্রীর সঙ্গে বাগ্বিত-া হচ্ছে। হোসেন আলী নামের এক যাত্রী বলেন, ‘চেকিং আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। এতদিন ১৫ টাকা ভাড়া  নেওয় হতো। এখন ২০ টাকা চাচ্ছে।’

মহসিন নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘কাকরাইল থেকে মৎস্য ভবন ৫ টাকা ভাড়া হতে পারে। তারপরও সর্বনিম্ন ভাড়া হিসেবে ১০ টাকা নিতে পারে। কিন্তু চেকিংয়ের উসিলায় তারা ১৫ টাকা নিত, এখন ২০ টাকা চাচ্ছে। এটা ডাকাতি ছাড়া কিছুই নয়।’

আজমেরি পরিবহনে এতদিন মালিবাগ থেকে মহাখালী ভাড়া নিতো ১০ থেকে ১৫ টাকা। কিন্তু  সোমবার থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। ৫ টাকা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে একই গন্তব্যের বলাকা পরিবহনও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত