ঐকমত্য কমিশন গণতান্ত্রিক ছিল না

বললেন সারা হোসেন

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। তিনি বলেছেন, এটিকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না। এটা ছিল একটি ‘সিলেক্টিভ প্রসেস’। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার : সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাক্সক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজক সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘কয়েকজনকে নিয়ে বসে ডিসিশন নিয়েছেন। গণতন্ত্র এখানে কোথায় ছিল? কিসের নির্বাচন, কে এসেছে? বাইরে থেকে কে কথা বলতে পেরেছে? কেউ না।’ তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে একজনও নারী সদস্য ছিলেন না। বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেও কোনো নারী আইনজীবী কিংবা বিচারপতিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটের তৃতীয় প্রশ্নের বিষয়ে জনগণের কোনো ধারণা ছিল না বলে মন্তব্য করেন সারা হোসেন। বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কয়জন বলতে পারবেন ৩০টা প্রস্তাব কী ছিল? আপনারা কিসের জন্য ভোট দিয়েছেন। এটা আমি যদি না জানি, তাহলে ভোটের কতটুকু আছে?’

আওয়ামী লীগ আমলে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে সারা হোসেন বলেন, এত বছর পার হয়ে গেছে, এটি নিয়ে নাগরিক সমাজ থেকে দাবি ওঠানো হয়নি, এটার সুরাহা হোক। কাদের ভূমিকা সেখানে ছিল, তা জানা যাক। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে ‘মিথ্যাভাবে’ জুলাই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন। বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক, ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত