সংসদে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারা দেশে যায়, কিন্তু নিজেরা পায় না

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

দেশের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানীখ্যাত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারা দেশে সরবরাহ করা হলেও খোদ জেলার মানুষই তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই মাটিতে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, শচীন দেববর্মন যেমন জন্মেছেন, তেমনি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বা অলি আহাদের মতো সংগ্রামী জননায়করাও এই মাটির সন্তান, যাদের কারণে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।

নিজের নির্বাচনী এলাকা আশুগঞ্জ ও সরাইলের চিত্র তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, আশুগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার মানুষ বঞ্চিত। ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত দেশের অন্যতম প্রাচীন তিতাস গ্যাস ফিল্ড থেকে দৈনিক ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। অথচ সরাইল সদরের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ।

তিনি জানান, ১৯৯১ সালে সরাইল সদরে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে কাগজে-কলমে ৫ হাজার গ্রাহক থাকলেও অবৈধ সংযোগসহ এই সংখ্যা প্রায় ৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু লাইনে গ্যাস নেই। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। চুলা জ্বলে মিটমিট করে। এক ঘণ্টা গ্যাস থাকলেও রাত পর্যন্ত আবার খবর থাকে না।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে উঠে আসে বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের সীমাবদ্ধতার কথা। সংসদ সদস্য জানান, তদারকির অভাবে এবং অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ২০১৬ সালের পর থেকে বন্ধ থাকা আবাসিক সংযোগও অনেকে অবৈধভাবে নিয়ে রেখেছেন। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বৈধ গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ লোকবল সংকটের অজুহাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

বিকল্প জ্বালানি হিসেবে মাটির চুলার ব্যবহার এখন মফস্বলেও প্রায় অসম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ এখন ফ্ল্যাটে থাকে, সেখানে মাটির চুলা বিলাসিতা। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে ২২০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। আবার বৈদ্যুতিক চুলার কথা বললে গ্রামে প্রতিদিন গড়ে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। ফলে রান্না নিয়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

সম্প্রতি তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের ৩১ নম্বর কূপ খননের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এই কূপ থেকে দৈনিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার স্পষ্ট দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারা দেশে যাওয়ার আগে স্থানীয়দের চাহিদা মেটাতে হবে। এই ৩১ নম্বর কূপের গ্যাস যেন আগে আমার এলাকার মানুষ পায়, সেই নিশ্চয়তা চাই।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি মাটির চুলায় রান্নার সমস্যার কথা পুনরায় উল্লেখ করে স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত