দেশের প্রথম ‘জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন হচ্ছে চবিতে

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রথম জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আগামী ২৪ এপ্রিল সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দিরটির উদ্বোধন করবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ (কেন্দ্রীয় মন্দির) উদ্বোধনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি স্থায়ী উপাসনালয়ের দাবি ছিল। ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতে উত্তর ক্যাম্পাসে জায়গা বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্থানটি প্রস্তুত করা হয়। পরে চট্টগ্রামের কোয়ালাখালীভিত্তিক অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে নির্মিত হয় আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এই ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরীও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার আলোকে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা কেবল উপাসনালয় হিসেবেই নয়, জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় দেবী পূজা ও বন্দনা, সকাল ১০টায় উদ্বোধন, সাড়ে ১০টা থেকে অতিথিদের বক্তব্য, দুপুরে আপ্যায়ন এবং বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়, প্রফেসর ড. সজীব কুমার ঘোষ, প্রফেসর ড. শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী, প্রফেসর ড. শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ, প্রফেসর ড. সুজন দে, শিমুল বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি অপি বিশ্বাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত