মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া এই ৩ দেশ সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এই সফরের মাধ্যমে তেহরান মূলত বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। খবর আল-জাজিরার।
সফরসূচি অনুযায়ী আরাঘচির প্রথম গন্তব্য ইসলামাবাদ। ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ‘সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করতে চায় তেহরান।
সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরাঘচি যাবেন ওমানে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয় এবং অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। ওমান সফরের মাধ্যমে ইরান অনানুষ্ঠানিক ও নির্ভরযোগ্য কিছু তথ্য বা সংকেত পাওয়ার আশা করছে, যা আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে পরিস্থিতি বুঝতে সহায়ক হবে।
সফরের সর্বশেষ গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো সফরটি হবে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন করে ওয়াশিংটনকে চাপে রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় ইরানের অনীহার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আব্বাস আসলানি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রতি চরম আস্থাহীনতার কারণেই তেহরান এই মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে ফিরতে রাজি নয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ‘অচলাবস্থার’ অজুহাত দেখিয়ে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই ইরান এখন তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
