কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ এখন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। 

গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মোট ২ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটিতে চলা ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বর্তমান পরিস্থিতি। 

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার গত সপ্তাহে বলেছিলেন, এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'এই মহামারিতে প্রতি ৩০ মিনিটে একজন করে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।'

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বান্দিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। তবে কয়েকটি টিকা তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি টিকা তৈরিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবনে ব্যবহৃত প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে।

ডিআর কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট রোববার জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৪৫টি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০১টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

দেশটির বাইরে তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ১২ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিবেশী উগান্ডায় ২০টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া জার্মানিতে দুজনের চিকিৎসা হয়েছে এবং ফ্রান্সে একজনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

তবে ডিআর কঙ্গোতে ভাইরাসটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাকে 'ব্যতিক্রমী' হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশটির ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ছয়টি প্রদেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছিল। অথচ বর্তমান প্রাদুর্ভাবে তিন মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। 

ইবোলা আবিষ্কারের ৫০ বছর পর ডিআর কঙ্গোতে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং মানুষের ব্যাপক চলাচল দেশটিতে রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ইবোলার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার আশা করছে তারা। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এর অর্থ পুরোপুরি প্রাদুর্ভাবের অবসান নয়; বরং ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত