গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভেসে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

গ্রিসে পৌঁছানোর আশায় লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগরে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ বাংলাদেশি। উদ্ধার করা হয়েছে আরও ২৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে।

নেভিগেশন ব্যবস্থা ছাড়া একটি রাবারের নৌকায় করে যাত্রা করেছিলো তারা। জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে প্রায় ১০ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায় ভাসতে থাকা নৌকাটি।

রবিবার (১৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় এ তথ্য জানিয়েছে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে ওই নৌকায় যাত্রা করেন ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি নাগরিক। মানবপাচারকারীদের সহায়তায় তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

যাত্রার আগে তাদের বলা হয়েছিল, গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা লাগবে। কিন্তু নৌকাটিতে প্রয়োজনীয় নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় এবং পরে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি পথ হারিয়ে ফেলে। এরপর প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসতে ভাসতে গত ১৩ আগস্ট মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে গিয়ে পৌঁছায় নৌকাটি।

উদ্ধারের পর স্থানীয় পুলিশ ২৯ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল এবং তারা অচেতন অবস্থায় থাকায় মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে মোট ২৯ বাংলাদেশি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানতে পেরেছে দূতাবাস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় সাগরে আটকে থাকার সময় প্রচণ্ড গরম, তীব্র রোদ, খাবার ও পানির সংকটে ৯ বাংলাদেশি এবং এক সুদানি নাগরিক মারা যান।

দীর্ঘদিন সাগরে পড়ে থাকায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরেছিল। একপর্যায়ে নৌকায় থাকা জীবিত ব্যক্তিরা মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন বলে জানান আব্দুল করিম।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে মিসরের স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস। চিকিৎসাধীন নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত