প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড গন্তব্যও নিউজিল্যান্ড

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম

বার্বাডোজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার উদযাপনের মধ্যেই বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আর থাকছেন না তারা। উদ্দেশ্যটা ছিল স্পষ্ট, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যেন পরের অধিনায়ক পর্যাপ্ত সময় পান দলটাকে গড়ে তোলার। সূর্যকুমার যাদব পরের প্রজন্মের ক্রিকেটারদের নিয়ে দুই বছর পর আহমেদাবাদে শিরোপাটা ধরে রেখেছেন। বাংলাদেশ রাজনৈতিক কারণে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি, তারপরও সব শঙ্কা উড়িয়ে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০ ওভারের ক্রিকেটের পরের বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। সেই যাত্রার শুরুটা হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই। গত বছরের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পর আর টি-টোয়েন্টি খেলেনি বাংলাদেশ, চট্টগ্রামেই যতিচিহ্ন পড়েছিল গত বছর আর এবারও শুরুটা হচ্ছে চট্টগ্রাম থেকেই।

বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খুব একটা চাহিদা নেই, হাতেগোনা দুয়েকজনেরই সুযোগ হয়। তাই টি-টোয়েন্টিতে হাত পাকাতে এখনো ঘরোয়া বিপিএল আর দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সিরিজই ভরসা। নিউজিল্যান্ড যেমন এবারের বাংলাদেশ সফরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা তারকাদের বাদ দিয়েই দল পাঠিয়েছে, বাংলাদেশের তো এই বিলাসিতা করার উপায়ও নেই। তবু নির্বাচকরা সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাসকিন-নাহিদ রানা-মোস্তাফিজকে বিশ্রাম দিয়ে রিপন ম-ল ও আব্দুল গাফফার সাকলায়েনের মতো তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়ে। ২০২৭ সালের জুনে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, অক্টোবর-নভেম্বরে বিশ্বকাপ। এই বছরটায় তাই টেস্ট ও ওয়ানডের তুলনায় টি-টোয়েন্টি সিরিজ কম। তবু বাংলাদেশ এই বছর ১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে, যদি ভারত বাংলাদেশ সফরে আসে তাহলে। তা না হলে এই বছর এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হওয়া সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা ৯। দেশে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটো সিরিজে ছয়টি ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিনটি। এই বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার কথা থাকলেও আর্থিক সমস্যার কারণে বাংলাদেশকে আতিথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড।

নতুন নির্বাচক প্যানেল দায়িত্ব নেওয়ার প্রথমবার দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছিলেন, ‘পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকলে আপনি ৩-৪ সিমার নিয়ে খেলতে পারেন। শেষ দিকে তেমন ব্যাটারও থাকে না। তাই পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকা খুব জরুরি। এ মুহূর্তে রেডিমেট তেমন হাতে নেই।’ সেই ভাবনা থেকেই রিপন ও সাকলায়েনকে সুযোগ দেওয়া। তবে বড় সমস্যা ব্যাটিং। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবশেষ আসরে যেভাবে আড়াইশর কাছাকাছি রান হয়েছে, তাতে করে ওভারপ্রতি গড়ে ১২-১৩ রান করে নেওয়াটা হয়ে গেছে নিয়মিত দৃশ্য। স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডের মতো সহযোগী দেশগুলোও এখন টি-টোয়েন্টিতে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। নেপাল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলকেও হালকাভাবে নেওয়ার উপায় নেই। এই সংস্করণে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রাটা দিন দিন হয়ে উঠেছে আরও কঠিন। এই জায়গাটাতেই পিছিয়ে বাংলাদেশ।

২০২৪-২০২৬, গত বছর দুয়েকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসে গড় রান হচ্ছে ১৪২। দেশে সেটা ১৪৮ আর বিদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে কমে হয় ১৩৮। এই সময়ে ৫১ ম্যাচ খেলে ২৬টাতে জিতেছে বাংলাদেশ, তবে বেশিরভাগই দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। লিটন দাসকে বিসিবি ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের চেয়ারে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই সঙ্গে সাইফ হাসানকেও সহ-অধিনায়ক হিসেবে।  তবে যারা সেই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, তারাই এখন আর নীতি নির্ধারণী জায়গায় নেই। লিটন ও সাইফ নিজেরা ব্যাটসম্যান হিসেবেই ২০২৮ পর্যন্ত একাদশে টিকে থাকতে পারেন কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন, কারণ লিটনের একটা ভালো ইনিংসের পিঠে থাকে ৪-৫টা অল্প রানের ইনিংস। সবশেষ ৪ ইনিংসে লিটনের একটা হাফসেঞ্চুরি, বাকি ৩ ইনিংসেই আউট হয়েছেন এক অংকের রানে। একসময়ের টেস্ট ওপেনার সাইফের ক্যারিয়ার টি-টোয়েন্টি দিয়ে পুনর্জীবিত হয়েছেন, এশিয়া কাপের দুটি ম্যাচে আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের একটি ম্যাচে ভালো করে সাইফ সাদা বলের ক্রিকেটে ফের জায়গা করে নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার পারফরম্যান্স প্রশ্নবিদ্ধ। মাঝের ওভারগুলোতে তাওহিদ হৃদয় টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখে বল নষ্ট করছেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তার ৫০ বলে ৮৩* রানের ইনিংসটা ছিল নিস্ফলা, যখন বাংলাদেশের জয়ের সব সম্ভাবনা শেষ তখন তিনি চালিয়ে খেলেছেন। যে ইনিংস দলের কোনো কাজে আসে না, এমন ইনিংসের পর তাকে সংবাদ সম্মেলনে এসে বলতে শোনা গেছে, ‘ক্রিকেট খেলা তো শুধু আমার একার খেলা না। আমি বিপিএলে উপরে ব্যাটিং করে এখানে জাতীয় দলে মিডলে খেলছি। দেখেন যেহেতু এটা দলীয় খেলা, উপরে তো এই মুহূর্তে খেলার মতো আসলে কোনো জায়গা নেই। এবং আপনারাও অনেকে হয়তোবা ভাবেন, আমি দলে থাকার মতো না। তো ভাই, আমি যেখানে আছি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।’

বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিতে পারে আগামী আসরে মন ভালো করা সাফল্য। সেজন্য প্রস্তুতির শুরুটা হওয়া উচিত প্রথম থেকেই। সুযোগ দেওয়া দরকার টি-টোয়েন্টি’র উপযোগী ব্যাটসম্যানদের, তাদের ভেতর জাগিয়ে তুলতে হবে টি-টোয়েন্টিতে বড় রান করার মানসিকতা। তা না হলে বিশ্বকাপে খেলা আর না খেলার মধ্যে তফাতটা হবে সামান্যই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত