যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা, লেবাননে নিহত ৪

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম

লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করেই দক্ষিণ লেবাননে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। সবশেষ দেশটির নাবাতিয়াহ জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আল জাজিরা ও লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর আল-শাকিফ শহরে একটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে দুটি পৃথক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন প্রাণ হারান।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি হেইডি পেট জানান, লিতানি নদীর উত্তর অংশে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। অথচ ইসরায়েল একতরফাভাবে এই নদীর নিচ পর্যন্ত তাদের সামরিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার দাবি করেছিল। এছাড়া বিনত জবেইল শহরে শনিবার সকালে ইসরায়েলি সেনারা বেশ কিছু ভবন বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। খিয়াম শহরেও আবাসিক ব্লকে বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৯৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৭১৯ জন আহত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ৩ সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিনত জবেইলের কাছে গোলাগুলিতে হিজবুল্লাহর ছয় যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য আলী ফায়াদ এই পরিস্থিতিকে ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‌‘ইসরায়েল যখন ক্রমাগত হত্যাযজ্ঞ ও শেলিং চালিয়ে যাচ্ছে, তখন এই যুদ্ধবিরতির কোনো মানে হয় না। ইসরায়েলি উস্কানির মুখে হিজবুল্লাহর পাল্টা জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।’

অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েল পূর্ণ সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখবে। তার অভিযোগ, হিজবুল্লাহই এই যুদ্ধবিরতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া আসলে শান্তি স্থাপনের জন্য নয়, বরং হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার একটি কৌশল মাত্র। বৈরুতের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলী রিজক বলেন, ‘ওয়াশিংটন যে প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে, তা নিয়ে লেবাননে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। এটি শান্তির চেয়ে হিজবুল্লাহকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যেই বেশি করা হয়েছে।’

এদিকে সংঘাতের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আইতারুন গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা হুদা কামাল মানসুর নামে এক নারী জানান, গত ৪৫ দিন ধরে তিনি তার নয় বছরের ছেলেকে নিয়ে বৈরুতের একটি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের গ্রাম ঘিরে ফেলার সময় আমরা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসি। তারা সেখানে একটি ঘরও আস্ত রাখেনি।’

ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে লিতানি নদীর কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই এলাকায় না যাওয়ার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতিরই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত