নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে পৃথকভাবে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও আইনজীবীরা।
আজ সোমবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ডের সামনে ও নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় পৃথকভাবে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবীরা সরকার প্রধান ও বিচার বিভাগের কাছে হত্যাকারীদের বিচারের আবেদন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা আমাদের স্বজনেদর হারিয়েছি ১২ বছর পার হয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট খুনিদের ফাঁসি দেয়নি। বিচার বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই দাবি যে অন্তত আমাদের ৭টা পরিবারের চিন্তা করে বিচার কার্যক্রম শেষ করা হোক। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন করছি যে আমরা সাতটা পরিবার কর্তা হারা হয়েছি। আমাদের অবস্থা বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টের বিচার কার্যক্রম শেষ করে দ্রুত মামলাটা নিষ্পত্তি করা হোক। আমরা এইটুকু দেখে যেতে চাই।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালিন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের পরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ৩০ এপ্রিল বন্দরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে একে একে ভেসে উঠে তাদের পেট কাটা, ২৪টি ইট বাঁধা মরদেহ।
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র্যাব ১১ এর তৎকালিন অধিনায়ক তারেক সাঈদ, অপর দুই কর্মকর্তা মেজর আরিফ, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রানা সহ ২৬ জনের মৃতুদন্ডাদেশ দেন। ২০১৮ সালের আগস্টে হাইকোর্ট ১৫ আসামীর মৃতুদণ্ড বহাল রেখে বাকীদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের পর আসামিরা আপিল করলেও তা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
