শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের রিমান্ডের পরদিনই তদন্ত কর্মকর্তা বদলি!

২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার ঠিক পরদিনই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে বদলি করায় সৃষ্টি হয়েছে নানা রহস্য ও প্রশ্ন!

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ এএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলাউদ্দিনকে সন্দ্বীপ থানায় বদলি করা হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের রিমান্ড মঞ্জুরের পরদিনই কর্মকর্তা বদলির এই আদেশে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য।

রিমান্ড চলাকালে আসামিকে কোনো বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে এই বদলি, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কিছু রয়েছে—এ নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলছে।

মামলা ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ৭-৮ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় জসিম উদ্দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীকালে উক্ত মামলায় আসামি মো. আসিফ (২৫) ও সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলাউদ্দিন।

এর আগে, গত ২ আগস্ট আদালত ডেভিড ইমনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর গত ১২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম ডেভিড ইমনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) তারেক আজিজ। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) তার ৫ দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে, ফলে আগামীকাল সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।

রিমান্ড মঞ্জুরের পরদিনই অর্থাৎ ১৩ আগস্ট জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলাউদ্দিনকে সন্দ্বীপ থানায় বদলির নির্দেশ দেন। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, বদলির বিষয়টি সত্য এবং শনিবার রাতের মধ্যেই এসআই আলাউদ্দিনকে ক্লোজ/ছাড়পত্র (সিসি) দিয়ে আজকের মধ্যেই নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।

এদিকে এসআই আলাউদ্দিনের দাবি, বদলিটি প্রশাসনিক কারণে নয় বরং ‘জনস্বার্থে’ করা হয়েছে। তবে রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই কেন এমন হঠাৎ বদলি—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে মামলার তদন্তভার নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ শনিবার জানান, তিন দিন আগেই মামলাটি জেলা ডিবিকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছিল, কারণ তারা ইমনকে নিয়ে বেশি কাজ করেছে। তবে রিমান্ডের মধ্যেই বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আবার জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এসআই আলাউদ্দিনই কাজ করছেন এবং আজকের মধ্যে নতুন অফিসার নিয়োগ হলেও মামলাটি হাটহাজারী থানাতেই থাকবে।

আসামি রিমান্ডে কী তথ্য দিচ্ছে—সে বিষয়ে পুলিশ মুখ খুলছে না। জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ উভয়েই জানান, তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলকে এ বিষয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও শনিবার রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী জসিম উদ্দিনও তদন্ত কর্মকর্তা বদলি বা ডিবিতে স্থানান্তরের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ভারতের সীমানা দিয়ে পালানোর সময় গত ২৯ জুলাই যশোরে ৩ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন ফটিকছড়ির বাসিন্দা ডেভিড ইমন। পরবর্তীতে ৩০ জুলাই তাকে চট্টগ্রামে এনে ৩টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৯টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় যে দুজন নেতৃত্ব দিতেন, তাদের একজন এই ডেভিড ইমন (অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমন অস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ এবং তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত