ইরানকে সমর্থনের অভিযোগে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে বাহরাইন। দেশটির সরকার বলছে, অভিযুক্তরা ইরানের হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং বিদেশি পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে জড়িত ছিল। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানায়, অভিযুক্ত ৬৯ জনের মধ্যে কয়েকজন একই পরিবারের সদস্য। রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার নির্দেশে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, তারা কেউ বাহরাইনের বংশোদ্ভূত নয়।
বাহরাইনের আইনে, দেশের ক্ষতি করা বা রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বস্ত আচরণ করলে কারও নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন বাহরাইন ইনস্টিটিউট ফর রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি এ পদক্ষেপকে বিপজ্জনক এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, বাহরাইনে আছেন নাকি দেশের বাইরে, কিংবা অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব আছে কি না—এসব বিষয়ও অস্পষ্ট।
বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে। ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় দেশটিতে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল। অন্যদিকে বাহরাইন সরকার বরাবরই এসব অস্থিরতার পেছনে ইরানের ভূমিকার অভিযোগ তুলে আসছে।
